Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

বাণিজ্যিকভাবে শুরু মাখনা চাষ

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুরে কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা। ডোবা ও জলাভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাখনা চাষ শুরু করেছেন কৃষকেরা। এতদিন ধান, গম, পাট চাষ করলেও এবার লাভজনক মাখনা চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

বাণিজ্যিকভাবে শুরু মাখনা চাষ
  • ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:০৪
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুরে কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা। ডোবা ও জলাভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাখনা চাষ শুরু করেছেন কৃষকেরা। এতদিন ধান, গম, পাট চাষ করলেও এবার লাভজনক মাখনা চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। প্রতিবেশী মালদহ জেলায় বহুবছর ধরেই বিপুল পরিমাণে মাখনা চাষ হয়ে আসছে। তাতে সেখানকার কৃষকরা লাভবানও হচ্ছে। সেখান থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের কৃষকরাও এবার মাখনা চাষ শুরু করেছেন।

Advertisement

হরিরামপুর ও কুশমণ্ডি এলাকার একফসলি ডোবা জমিকে বেছে নেওয়া হয়েছে এই চাষের জন্য। মাখনা চাষের জন্য প্রথমে জলাভূমিকে উপযুক্ত করে তুলতে হয়। এরপর মালদহ থেকে আনা বীজ জলে ছড়িয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। তা থেকে হয় গাছ। ধান বা গমের মতোই নিয়মিত পরিচর্যা, সার প্রয়োগ এবং নজরদারির মাধ্যমে মাত্র তিনমাসের মধ্যে ফসল তোলা সম্ভব। কৃষকদের দাবি, ফলন ভালো হলে এই ফসল থেকে ৩ থেকে ৪ গুণ পর্যন্ত মুনাফা লাভ করা যায়। কৃষকদের কথায়, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মাটিও মাখনা চাষের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও চাষের খুঁটিনাটি বিষয় জানতে এখনও মালদহের অভিজ্ঞ কৃষকদের পরামর্শ নিতে হচ্ছে। হরিরামপুরের কৃষক কুদুস আলি বলেন, আমার পূর্বপুরুষ মালদহের সামসী এলাকায় মাখনা চাষ করতেন। ছোটবেলা থেকে সেই চাষ দেখে বড়ো হয়েছি। বর্তমানে দক্ষিণ দিনাজপুরে বসবাস করছি। গতবছর অল্প পরিসরে ডোবা জমিতে পরীক্ষা করে দেখেছিলাম, ভালো ফল পাওয়া গিয়েছে। এবার ৫০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাখনা চাষ শুরু করেছি।
ফলন কেমন হয়? কুদুস বলেন, প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৭ কুইন্টাল পর্যন্ত মাখনা উৎপাদন হয়। যার বাজারদর কুইন্টাল প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। খই তৈরি করে বিক্রি করলে লাভ আরও বেশি। তবে আমাদের এলাকায় এখনও মাখনার বড়ো বাজার তৈরি হয়নি। তাই মালদহে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে হয়। শুধু কুদুস নন, হরিরামপুর ও কুশমণ্ডির বহু কৃষক জলাভূমি লিজ নিয়ে মাখনা চাষে শুরু করেছেন। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে দক্ষিণ দিনাজপুরে কৃষির চিত্র বদলে যেতে পারে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ