নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাঁরা বিতর্কিত চরিত্র কিংবা যাঁদের কাজ নিয়ে বার বার বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং দলকে অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়েছে, তাঁদেরকে কোনওভাবে স্থানীয় এলাকায় ‘মুখ’ করা যাবে না। পারফরম্যান্স বা যোগ্যতার মাপকাঠিতে ব্লক স্তরের সংগঠনকে সাজানো হবে। এই বার্তাটাই স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে তৃণমূল সেনাপতির নির্দেশ, একা নয় আমরা, এই মনোভাব নিয়ে একজোট হয়ে বুথস্তরে তৃণমূলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ব্লক ও টাউন স্তরের সাংগঠনিক পরিসরে রদবদল করতে চলেছে তৃণমূল। তার জন্য জেলাভিত্তিক সাংগঠনিক বৈঠক শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও মালদহ জেলায় সাংগঠনিক বৈঠক হয়েছে। সোমবার উত্তর দিনাজপুর ও বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। ওই দুই জেলার তৃণমূল নেতাদের কলকাতায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে বিধানসভা ধরে ধরে পর্যালোচনা করা হয়েছে। ২০২১ সালে বিধানসভায় কী ফল হয়েছে এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে বিধানসভায় কী ফলাফল হয়েছে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিধানসভাভিত্তিক খামতিগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে বৈঠকে। আলোচনায় সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে ব্লক ও টাউন সভাপতি বাছাই প্রসঙ্গ। সেখানে জেলা নেতারা নিজের মত ব্যক্ত করেন। তবে অভিষেকের কাছে যে রিপোর্ট রয়েছে এবং তৃণমূলের পরামর্শাদাতা সংস্থার আইপ্যাকের পর্যবেক্ষণকে মিলেয়ে দেখা হয়। সূত্রের খবর, বৈঠকে উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘি, ইসলামপুর, রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন ব্লক ও টাউন নেতাদের বাছাই নিয়ে যুক্তি দেন সেখানকার বিধায়করা। সবদিক খতিয়ে দেখে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদন নিয়েই ব্লক ও টাউন সভাপতিদের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে অভিষেক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং যোগ্যতাসম্পন্ন, পরীক্ষিত ব্যক্তিদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে।
পারফরম্যান্সই শেষ কথা, এই বার্তাটা বহরমপুর জেলার নেতাদের নিয়ে বৈঠকেও জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সেনাপতি। যাঁরা দলের জন্য কাজ করছেন না, দলকে বিড়ম্বনায় ফেলছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দলগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে বৈঠকে। বিজেপিশাসিত রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতন, এনআরসি বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ভাষা আন্দোলন, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে বুথভিত্তিক কর্মসূচির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান নিয়ে প্রতি বুথে দু’টি করে সভার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ বিধানসভায় কৃষ্ণ কল্যাণীকে সংগঠনের দিকে আরও নজর দিতে বলা হয়েছে। আবার মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির বৈঠকে হাজির হয়ে নিজের অভিমানের কথা জানান। দল সবদিক নজর রাখছে বলে জানানো হয়েছে। নিজস্ব চিত্র