নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মী ও আধিকারিকদের (গ্রুপ এ, বি এবং সি শ্রেণির) পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএর পুরো অংশ তাঁদের জিপিএফে জমা দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তবে এই তহবিল থেকে টাকা তোলার সময় আয়কর খাতে টাকা কাটা হবে। বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, বকেয়া ডিএর দ্বিতীয় কিস্তি প্রদানের বিজ্ঞপ্তিতে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, ভুলবশত কাউকে বেশি টাকা (ওভারড্রল) দেওয়া হয়ে থাকলে সেটিও ওইসময় হিসাব মাফিক বাদ দেওয়া হবে। দুটি কিস্তিতে বকেয়া ডিএর টাকা জিপিএফ তহবিলে দেওয়া হচ্ছে। ২০১৬-র জানুয়ারি থেকে ২০১৯-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের অংশ গত এপ্রিলে দেওয়া হয়েছে। ২০০৮-এর এপ্রিল থেকে ২০১৫-র ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মেটানো হবে একইভাবে। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। দুটি ক্ষেত্রে গ্রুপ ডি কর্মীদের বকেয়া ডিএ স্যালারি অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। বাকিরা কর্মরত থাকলে দুটি ক্ষেত্রেই ২০২৮-এর এপ্রিল পর্যন্ত জমাকৃত এই বকেয়া অর্থ জিপিএফ তহবিল থেকে তুলে নেওয়া যাবে না।
অর্থদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আয়কর খাতে কত টাকা কাটা হবে, টাকা প্রদানের আগেই ডিডিও তার হিসাব করবেন। তবে তা করার পদ্ধতিটি বিজ্ঞপ্তিতে ঊহ্য। কর্মীমহলের অনুমান, নির্দিষ্ট সময়ে বর্ধিত ডিএ বেতনে যুক্ত হলে ওই অর্থবর্ষে কর্মীর আয়কর কতটা বাড়ত, টাকা কাটা হবে সেইমতোই।
সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার প্রধান পক্ষ—কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় জানান, আয়কর কাটা নিয়ে তাঁদের বলার কিছু নেই। তবে ওভারড্রলের যুক্তি দেখিয়ে টাকা কাটার বিষয়টিতে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। সরকার হিসাবে ভুল করবে কেন? সংগঠনের দাবি, সবর্ভারতীয় মূল্য সূচক (এআইসিপিআই) অনুযায়ী বকেয়া ডিএর হিসাব করেনি সরকার। তাই কর্মীরা কম টাকা পাচ্ছেন। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মালহোত্রা কমিটির গোচরে আনা হবে। কমিটি তার রিপোর্ট পেশ করার পর অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ডিএ মামলা ফের সুপ্রিম কোর্টে উঠবে। কিন্তু সব পক্ষকে নিয়ে কমিটির যে বৈঠক করার কথা ছিল, সেটি ফের কবে হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।