Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিষ্ণুপুরে সোজা রথে ২০ জোড়া মৃদঙ্গ সহযোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

বিষ্ণুপুরে এবার ২০ জোড়া মৃদঙ্গ সহযোগে সোজা রথের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোজা রথের দিন বিকেলে বিষ্ণুপুর হাইস্কুল প্রাঙ্গণ থেকে রথের শোভাযাত্রা হবে।

বিষ্ণুপুরে সোজা রথে ২০ জোড়া মৃদঙ্গ সহযোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

উজ্জ্বল পাল, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুরে এবার ২০ জোড়া মৃদঙ্গ সহযোগে সোজা রথের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোজা রথের দিন বিকেলে বিষ্ণুপুর হাইস্কুল প্রাঙ্গণ থেকে রথের শোভাযাত্রা হবে। তাতে সামনের দু’টি সারিতে প্রায় ৪০জন কীর্তনীয়া মৃদঙ্গ বাজাবেন। ওইদিন ইসকন সহ বিভিন্ন সংস্থার তরফে সুসজ্জিত একাধিক রথ টানা হবে। তাতে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হবে। এছাড়াও ওইদিন সকালে শহরের কৃষ্ণগঞ্জ ও মাধবগঞ্জে পৃথকভাবে রথযাত্রার অনুষ্ঠান হবে। 

Advertisement

বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম গোস্বামী বলেন, বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্যবাহী রথ প্রায় ৩৫০ বছর ধরে চলে আসছে। বাইরে থেকে প্রচুর মানুষ আসেন। বিশেষ করে উল্টো রথের শোভাযাত্রা এলাকার মানুষের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। রথ উপলক্ষ্যে মদনগোপাল মন্দির প্রাঙ্গণে মেলা বসে। এছাড়াও সোজা রথ থেকে উল্টো রথ পর্যন্ত প্রতিদিনই কৃষ্ণগঞ্জ এবং মাধবগঞ্জ দুই মন্দিরে রাজভোগ বিতরণ করা হয়। তা সংগ্রহ করতে ভক্তদের লম্বা লাইন পড়ে। এছাড়াও গত কয়েক বছর ধরে সোজা রথের দিনও শহরে বিশেষ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এবারও তার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে এনিয়ে প্রশাসনিক স্তরে বৈঠক হয়েছে।  
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মল্লারাজাদের স্মৃতি বিজড়িত শহরের রথযাত্রায় কৃষ্ণগঞ্জ ও মাধবগঞ্জের আরাধ্য দেবতা যথাক্রমে রাধালালজিউ এবং মদনগোপালজিউ অধিষ্ঠান করেন।। তাঁদের প্রতীক হিসেবে যথাক্রমে গরুড় ও ষাঁড় থাকেন। সোজা রথের দিন সকালে ও রাতে দুই মন্দিরে রথ টানা হয়। রথের রশিতে টান দিতে প্রচুর দর্শনার্থীদের ভিড় জমে। উল্টো রথের আগের দিন বকুলকুঞ্জ অনুষ্ঠানে দুই মন্দিরে দেবতাকে মন্দিরে সাজিয়ে বিশেষ পুজো করা হয়। উল্টো রথের দিন শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে শহরে কার্যত জনজোয়ার সৃষ্টি হয়। শহর ছাড়াও আশে পাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন। ওই দিন রাধালালজিউ এবং মদনগোপালজিউ দুই দেবতা ছাড়াও তাঁদের প্রতীক যথাক্রমে গরুড় এবং ষাঁড়ের বিগ্রহ সুসজ্জিত রথে চড়ে নগর পরিক্রমার জন্য বের হন। তাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণগঞ্জের শোভাযাত্রা কৈলাসতলা, গোপালগঞ্জ, রসিকগঞ্জ, উকিলপাড়া, ঢেলাদুয়ার হয়ে মন্দিরে ফিরে আসে। একইভাবে মাধবগঞ্জের শোভাযাত্রা মুচিগলি, বোলতলা, বাহাদুরগঞ্জ, চকবাজার, থানা মোড়, গোয়ালাপাড়া হয়ে মন্দিরে আসে। তবে ঢেলাদুয়ার এলাকায় দুই দেবতা মুখোমুখি হয়। বছরের ওই একটা দিন তাঁদের একে অপরকে দেখেন। তবে ওই সময় যাতে দু’পক্ষের মধ্যে কোনও ঝামেলা না হয়, সেই জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে টিনের বেড়া দেওয়া হয়। সেখানে প্রচুর পরিমাণে পুলিস মোতায়েন করা হয়। শহরের নাগরিকদের তরফে সোজা রথের দিন বিকেলে শহরের রাজপথে শোভাযাত্রা সহকারে রথযাত্রার আয়োজন করা হয়। তাতে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ছাড়াও সমাজের বিশিষ্টজনের অংশ নেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। পুরীর আদলে রথযাত্রা হবে। তবে এবার বিশেষ বৈশিষ্ট হিসাবে প্রায় ২০জোড়া  মৃদঙ্গ সহযোগে শোভাযাত্রা হবে। তার প্রস্তুতি জোর কদমে চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ