Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রথযাত্রায় দুবরাজপুরের আকাশে বাহারি রঙের ঘুড়ির লড়াই

নীল আকাশজুড়ে বাহারি রঙের ঘুড়ি। ভোরের আলো ফুটতেই আকাশে শুরু হয়ে যায় কাটাকুটি খেলা। বীরভূম জেলার দুবরাজপুরে রথযাত্রায় ঘুড়ি ওড়ানো উৎসবে পরিণত হয়েছে।

রথযাত্রায় দুবরাজপুরের আকাশে বাহারি রঙের ঘুড়ির লড়াই
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিতাই সাহা, সিউড়ি: নীল আকাশজুড়ে বাহারি রঙের ঘুড়ি। ভোরের আলো ফুটতেই আকাশে শুরু হয়ে যায় কাটাকুটি খেলা। বীরভূম জেলার দুবরাজপুরে রথযাত্রায় ঘুড়ি ওড়ানো উৎসবে পরিণত হয়েছে। এই বিশেষ দিনে দুবরাজপুরের আকাশে শুধুই ঘুড়ির আনাগোনা নজরে আসে। এক-একটি পাড়া কিংবা গুটিকয়েক ছেলেরা দল বেঁধে ঘুড়ি উৎসবে সামিল হয়।

Advertisement

আষাঢ় মাসের দ্বিতীয়া তিথিতে রথের রশিতে টান পড়ে। সেদিন জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রা রথে চেপে মাসির বাড়ি রওনা হন। রথযাত্রার দিন দুবরাজপুরের আকাশে চলে ঘুড়ির লড়াই। রঙবেরঙের ছোট-বড় হরেকরকমের ঘুড়ি দেখা যায়। সেজন্য রথযাত্রার আগে থেকেই দোকানে দোকানে ঘুড়ি বিক্রির ধুম পড়ে যায়। ঘুড়ি বিক্রেতারা অনেকসময় নাওয়াখাওয়ার সময় পান না। চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতাদের হাতে লাটাই, মাঞ্জা দেওয়া সুতো, ঘুড়ি তুলে দিতে ব্যস্ত থাকেন। 
দুবরাজপুরের প্রবীণ বাসিন্দারা জানালেন, একসময় বাড়িতেই সুতোয় মাঞ্জা দেওয়ার কাজ চলত। অনেকে নিজেদের মনের মতো ঘুড়ি বাড়িতেই তৈরি করতেন। এখন বাড়িতে ঘুড়ি তৈরির চল কমে গেলেও রথযাত্রায় ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসাহ একইরকম রয়েছে। ঘুড়ি উৎসবে মজে থাকার পাশাপাশি এই বিশেষ দিনে দুবরাজপুরে অনেকেই মুড়ি-ঘুগনি খেয়ে দিন কাটান।
সাধারণত বিশ্বকর্মা পুজোর দিন সর্বত্র ঘুড়ি ওড়ানোর চল রয়েছে। কিন্তু দুবরাজপুর সেক্ষেত্রে বহু বছর ধরেই ব্যতিক্রম। কীভাবে, কার হাত ধরে দুবরাজপুরে রথযাত্রায় ঘুড়ি উৎসবের সূচনা হয়েছিল, তা অবশ্য কারও জানা নেই।
রথযাত্রার আগেই দুবরাজপুরে দোকানে দোকানে ঘুড়ি নজরে আসে। সেইসঙ্গে বাহারি লাটাই ও সুতোর সম্ভারও দেখতে পাওয়া যায়। ব্যবসায়ী সুশান্ত রায় বলেন, বছরভর ঘুড়ির তেমন চাহিদা থাকে না। তবে রথের দিন এগিয়ে আসতেই ঘুড়ি বিক্রি বাড়তে থাকে। এবার পিকচার কাইটের চাহিদা রয়েছে। কাগজের তৈরি পেটকাটি, চাঁদিয়াল, তবলা, রকেট, তীর-ধনুক, চিলের চাহিদাও রয়েছে। এখনকার যুগেও চিরাচরিত ঐতিহ্য যে অমলিন রয়েছে-তা ভেবেও ভালো লাগে। কিন্তু ডিজিটাল যুগে আর কতদিন এই ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব হবে-তা বলা মুশকিল।
বছর পঞ্চাশের অনল চট্টোপাধ্যায় বলেন, কেন ও কীভাবে ঘুড়ি উৎসবের সূচনা তা জানা নেই। ছোটবেলা থেকেই রথের দিন ঘুড়ি ওড়ানোর প্রচলন দেখে আসছি। এই আঞ্চলিক উৎসবের সঙ্গে আমাদের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। ছোটবেলায় বন্ধুদের সঙ্গে আমিও রথযাত্রায় ঘুড়ি ওড়াতাম। বড় হয়েও ঘুড়ি উড়িয়েছি। মাঝে দু’টো বছর ঘুড়ি উৎসবে শামিল হতে পারিনি। তবে এবার ফের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ