নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পুলিসের চাকরি থেকে অবসর নিয়ে রানিগঞ্জ থানার রানিসায়ের মোড়ের অদূরে নিশ্চিন্তে জীবন কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন রামদুলাল মিশ্র। কিন্তু ওই সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধের জীবন জেরবার করে দিয়েছে নর্থ সিয়ারসোল ওসিপি বা খোলামুখ কয়লাখনি। ওসিপি আয়তনে বাড়তে বাড়তে তাঁর ইন্দ্রভূমি কলোনির বাড়ির উঠোনে হাজির। কয়লা কাটতে নিয়মিত বিস্ফোরণ হয়। তার জেরে রাতের ঘুম তো গিয়েছেই, এখন বাড়িতে বড় বড় ফাটল ধরেছে। যে কোনও সময়ে সস্ত্রীক বাড়ি চাপা পড়ার আশঙ্কা মাথায় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধ।
ইন্দ্রভূমিতেই বাড়ি মনসা বাদ্যকরের। তিনি বাড়ির সামনে বানিয়েছিলেন মনসা মন্দির। তাঁর বাড়ির পাশাপাশি সেই মন্দিরেও ফাটল ধরেছে। মন্দিরের ফাটল এতটাই বড় যে, বিগ্রহ বৃষ্টিতে ভিজছে। বাধ্য হয়ে বিগ্রহকে নিয়ে যেতে হয়েছে। একই ভাবে ফাটল ধরেছে বিশ্বনাথ বাউরি, তপন বন্দ্যোপাধ্যায়দের বাড়িতেও। ইন্দ্রভূমি কলোনিতে প্রায় ৩২টি বাড়ি রয়েছে। সেখানকার বাসিন্দারা রীতিমতো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এত কাছ থেকে কয়লা কাটা হলেও বাসিন্দাদের পুনর্বাসন দিয়ে অন্যত্র সরানোর উদ্যোগ হয়নি। বিশাল বিশাল অট্টালিকা করে কার্যত ফেঁসে গিয়েছেন তাঁরা। এখন পরিত্রাণের রাস্তা খুঁজছেন। রামদুলাল মিশ্র বলেন, কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ শুধু যে আমাদের পুনর্বাসন না দিয়ে অন্যায় করছে তা নয়, তারা নির্বিচারে ভূগর্ভস্থ জল তুলে নিচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় যেখানে ভূগর্ভস্থ জলের সঙ্কট চলছে, সেখানে এই লুট কতটা বৈধ! তাঁদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে দেখা গেল, সাইকেলে করে নির্বিচারে কয়লা পরিবহণ চলছে। দিনের আলোতেই কোলিয়ারি থেকে কয়লা লুট চলছে।
এনিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে উঠে এল ভয়ঙ্কর তথ্য। দুয়ারে কোলিয়ারি হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষের সমস্যা বাড়লেও একটি অসাধু চক্র ফুলে ফেঁপে উঠছে। তাঁরা আবার দুয়ারে অবৈধ কয়লার ডিপো বানিয়ে নিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, একটি কয়লা ডিপো রয়েছে রানিসায়ের কর্মকার পাড়ার কুয়োতলার পিছনে। বিশাল জমি পাঁচিল দিয়ে ঘিরে সেখানে অবৈধ কয়লার কারবার চালাচ্ছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। পাশাপাশি একটি করে অবৈধ কয়লা ডিপো চলছে রানিসায়ের মোড়ের জলট্যাঙ্কির কাছে, অন্যটি জামুড়িয়ার কাটাগড়িয়ায়। সাইকেলে, বাইকে করে কোলিয়ারি থেকে কয়লা কেটে এনে এই ডিপোগুলিতে রাখা হয়। তা আবার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যায়।
রানিগঞ্জর বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অবৈধ কয়লা ডিপো কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। খোঁজ নিয়ে জেলাশাসককে লিখিত অভিযোগ করব। ইসিএলের কুনুস্তোড়িয়া এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার অনন্ত ঘোষ বলেন, এলাকাবাসীর সমস্যা নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা হয়। কয়লা চুরি আটকাতে সিআইএসএফ অভিযান চালায়। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাড়িতে ফাটল।-নিজস্ব চিত্র