নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুর জেলার কলেজগুলোকে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনার সিদ্ধান্ত কার্যত চূড়ান্ত। তার জন্য শুরু হয়েছে জোর তৎপরতা। চলতি মাসে উচ্চশিক্ষা দপ্তর সিলমোহর দিতে পারে। তবে এতে জেলার কলেজগুলো কতটা লাভবান হবে, তা নিয়ে এখন থেকে কিছুটা দোলাচলে একাংশ কলেজ কর্তৃপক্ষ। সুরেন্দ্রনাথ মহাবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল চন্দন রায়ের বক্তব্য, আমরা বর্তমানে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। আগামীতে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলে সেটা আমাদের কলেজের জন্যও অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ হবে বলে অনুমান করছি। কারণ দফায় দফায় আলোচনায় আমরা রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। কিন্তু আমাদের কলেজে স্নাতকস্তরে যে সাবজেক্ট পড়ানো হয়, একই সাবজেক্ট যদি রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকস্তরেও পড়ানো হয় তাহলে আমাদের কলেজের ভর্তির ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের উৎসাহ কমার আশঙ্কা থেকে যায়। আমাদের কলেজ ছেড়ে পড়ুয়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকস্তরে ভর্তি হয়ে যেতে পারেন। এই বিষয়টি নিয়ে আমরা একটু সংশয়ের মধ্যে আছি।
আবার ইটাহারের ডাঃ মেঘনাদ সাহা কলেজের অধ্যক্ষ অমিত ভৌমিক বলেন, বর্তমানে আমরা গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আমাদের কলেজের পড়াশোনা চালাচ্ছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন হলে সাময়িকভাবে পড়ুয়ারা কিছুটা আইনি সমস্যায় পড়তে পারেন। নতুন করে আমাদের কলেজে যাঁরা ভর্তি হবেন, তাঁদের থেকে সমস্যা বেশি হবে যাঁরা বর্তমানে কলেজের দ্বিতীয় সেমেস্টার থেকে চতুর্থ, পঞ্চম সেমেস্টারে পড়াশোনা করছেন তাঁদের জন্য। কারণ, ওই পড়ুয়াদের নাম ইতিমধ্যে নথিভুক্ত হয়ে আছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে।
তবে অধ্যক্ষের দাবি, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যুক্ত হলে আমাদের জেলার কলেজগুলোরও অনেক সমস্যা মিটবে। কলেজ পরিচালনার কাজে জেলা থেকে অনেকটা দূরে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় যেতে হবে না।
রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অর্ণব সেন বলেন, আমরা উত্তর দিনাজপুর জেলার কলেজগুলোর সঙ্গে বহুবার বৈঠক করেছি। অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা দপ্তর পদক্ষেপ করলে কলেজগুলো আমাদের অধীনে চলে আসবে। আমরা একে অপরের পরিকাঠামো ব্যবহারের পাশাপাশি বহু সুবিধা পাবে অন্তর্ভুক্ত কলেজগুলো। আমরা এ নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী।