Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলেজ ছাত্রীকে কোলাঘাটের হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ, ধৃত

দায়ের করা অভিযোগে তরুণী জানিয়েছেন, হোটেলের ঘরে রাতভর অত্যাচারে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।

কলেজ ছাত্রীকে কোলাঘাটের হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ, ধৃত
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রথমে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া ও মদ্যপান। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তরুণী যখন নেশার ঘোরে ছিলেন, তখনই তাঁকে নিজের গাড়িতে তুলে কোলাঘাটের একটি হোটেলে রওনা দেয় মহম্মদ জামশেদ নামে এক যুবক। আর সেখানেই তরুণীকে ধর্ষণ করে সে। এমনই গুরুতর অভিযোগে শনিবার গভীর রাতে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ। দায়ের করা অভিযোগে তরুণী জানিয়েছেন, হোটেলের ঘরে রাতভর অত্যাচারে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। পরে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের গোটা ঘটনা জানান এবং রবীন্দ্র সরোবর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়িয়ার বাসিন্দা ওই তরুণী দক্ষিণ কলকাতার একটি কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্রী। মাসতিনেক আগে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে পার্ক স্ট্রিটে একটি কফি শপে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁর সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় হয়। নিজেকে বড় ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেয় জামশেদ। কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের আলাপ জমে ওঠে। মোবাইল নম্বরও আদানপ্রদান হয়। কয়েকদিন কথাবার্তার পর আরও দু’বার তাঁরা কফি শপে দেখা করেন। গত ৩০ অক্টোবর ফোন করে ওই তরুণীকে দেখা করার জন্য ডেকে পাঠায় জামশেদ। তারা রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় দেখা করে এবং সেখানকার একটি রেস্তরাঁয় খাওয়াদাওয়া করে। জামশেদ সেদিন তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত ছেড়ে দিয়ে আসে। পরের দিন, ৩১ অক্টোবর সকালে ফের অভিযুক্ত ফোন করে দেখা করতে বলে তরুণীকে। বলে, সপ্তাহ শেষে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়ার প্রস্তাব দেয়। তরুণী প্রাথমিকভাবে নারাজ হলেও জোরাজুরিতে পরে রাজি হন। ওই দিন সন্ধ্যা নাগাদ তিনি রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকায় আসেন। সেখানকার একটি হোটেলে দু’জন খাওয়াদাওয়া করে। চলে দেদার মদ্যপান। তরুণী লিখিত অভিযোগে পুলিশকে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে তিনি যখন ঘোরের মধ্যে ছিলেন, তখন তাঁকে গাড়িতে তুলে জামশেদ কোলাঘাটের একটি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে সারারাত ধরে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। ১ নভেম্বর সকালে তরুণী বুঝতে পারেন, তিনি একটি হোটেলের রুমে রয়েছেন। সেই সময়ে রীতিমতো অসুস্থ বোধ করছিলেন ওই তরুণী। ওই অবস্থায় জামশেদই তাঁকে গাড়িতে করে বাড়ির কাছে ছেড়ে দিয়ে যায়। বাড়ির লোকজনকে সমস্ত ঘটনা জানান তিনি। থানায় ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ করা হয় শনিবার বিকেলে। এর পরেই তরুণীর মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়। বাজেয়াপ্ত করা হয় তাঁর জামাকাপড়। 
তদন্তে নেমে মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত যুবকের বাড়ি বেনিয়াপুকুর এলাকায়। রাতে সেখানে হানা দিয়ে জামশেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযুক্ত যুবক আর কারও সঙ্গে একই কায়দায় অপরাধ ঘটিয়েছে কি না, জেরা করে জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ