নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেঙ্গল এসটিএফের জালে এবার জঙ্গি সন্দেহে ধৃত হামিমের বন্ধু হাওড়ার বাসিন্দা আদিত্য সিং ওরফে রাজ। সিটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আদিত্যকে রবিবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত আদিত্য প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই ও তাঁর ছেলের ভিডিও, গতিবিধি, বাড়ির ছবি হামিমকে পাঠায় বলে অভিযোগ। হামিমের মোবাইল থেকে এই তথ্য মেলার পরই তাকে ধরে এসটিএফ। একটি গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে হামিমের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল আদিত্যর। এরপর হামিম তার সঙ্গে বেলিলিয়াস রোডের বাড়িতে গিয়ে দেখাও করে। সেখানে তাকে উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা মন্ত্রীর বাড়ি থেকে শুরু করে যাবতীয় তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেয় হামিম। ধৃত আদিত্যও পাকিস্তানের শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে দাবি করেছে এসটিএফ। আইএসআইয়ের মদতে ভাট্টি গ্যাং এখন ‘তেহেরিক-ই-হিন্দুস্থান’ নামে একটি জঙ্গি সংগঠন তৈরি করেছে। সেই সংগঠনের জন্য ‘বেঙ্গল মডিউল’ নামে একটি গ্রুপ তৈরি করা হয়। যেখানে এই দুজন ছাড়াও আরও একাধিক তরুণ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাকিস্তানের একাধিক হ্যান্ডলারের সঙ্গে আদিত্য কথা বলত বলে তার মোবাইল ঘেঁটে জেনেছেন তদন্তকারী সংস্থা। সোমবার আদিত্যকে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে, ১১ দিনের পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত।
প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই দাবি করেছেন, তাঁকে পাঁচ কোটি টাকা চেয়ে ফোন করেছিল ভাট্টি গ্যাং। না দিলে তাঁকে মেরে ফেলা হবে। একইসঙ্গে বলা হয় শুধু তোমাকে নয়, তোমার মুখ্যমন্ত্রীকে উড়িয়ে দেওয়া হবে। ভাট্টি গ্যাংয়ের তরফে আবিদ জাট টাকা চেয়ে মন্ত্রীকে ওই ফোনটি করেছিল বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। হামিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, তাকে দেওয়া প্রতিটি টাস্ক কতটা হয়েছে, তা গ্রুপে পোস্ট করে জানাতে হত। বিভিন্ন দেশবিরোধী পোস্টার সাঁটানোর জন্য তাদের কাছে নির্দেশ এসেছিল। তার কাজ চলছিল। কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন জায়গায় রাতে সেগুলি সাঁটানো হত। তদন্তে উঠে এসেছে, পোস্টার মারার জন্য তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হত। আর মন্ত্রী বা ভিভিআইপিদের খুন করলে মিলত লাখ দশেক টাকা। পুলিশ সহ অন্যদের হত্যা করলে লাখ তিনেক দেওয়ার কথা হয়েছিল। হামিম সহ বাকিদের চ্যাট থেকে এই তথ্য মিলেছে। হামিম জেরায় জানিয়েছে, প্রতি মাসে সে ৫০ হাজার টাকা করে পেত বিভিন্ন কাজের জন্য। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে হামিমের অ্যাকাউন্টে দুবাই থেকে লাখ তিনেক টাকা এসেছে। ভাট্টি গ্যাং এই টাকা পাঠিয়েছে তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর কাছে। সেখান থেকে টাকা এসেছে ভারতে। এই ধরনের পাঁচটি অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে বলে খবর।
একইসঙ্গে গোয়েন্দারা হামিমের বিভিন্ন মেসেজ বিশ্লেষণ করে জেনেছেন, তাকে গ্রেনেড তৈরি শিখতে হয়েছিল। এরজন্য ইউটিউব দেখে গ্রেনেড বানানো শিখছিল। এরপর গ্রেনেড তৈরির উপকরণ কিনত হামিম। এমনকি পেট্রোল বোমা তৈরির নির্দেশ এসেছিল পাকিস্তান থেকে। তদন্তকারীদের ধারণা, নাশকতার কাজেই গ্রেনেড বা পেট্রোল বোমা ব্যবহারের ছক কষা হয়েছিল।