Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বড়দি’র সঙ্গে অশান্তি, ছাদে উঠে মরণঝাঁপ কলেজ ছাত্রীর

পারিবারিক কোনও বিষয় নিয়ে দু’দিন ধরে দিদির সঙ্গে ঝামেলা চলছিল বোনের।

বড়দি’র সঙ্গে অশান্তি, ছাদে উঠে মরণঝাঁপ  কলেজ ছাত্রীর
  • ২৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পারিবারিক কোনও বিষয় নিয়ে দু’দিন ধরে দিদির সঙ্গে ঝামেলা চলছিল বোনের। বুধবার সকালে বোনকে অনেক বকাবকিও করেন দিদি। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যে এমন ঘটনা ঘটে যাবে, দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি কেউ! এদিন দুপুরে যোধপুর পার্কের একটি বহুতলের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলেন বোন! পুলিস জানিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম সায়নী খাতুন (২১)। পূর্ব বর্ধমানের কালনা কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী তিনি। কলকাতার লেক থানা এলাকার যোধপুর পার্কে দিদির সঙ্গে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন সায়নী। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে লেক থানার পুলিস। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, আত্মঘাতীই হয়েছেন তরুণী। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন ফরেন্সিক বিভাগের আধিকারিকরা। 

Advertisement

৪০৬, যোধপুর পার্কের আবাসনে এদিন দুপুরের এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে আচমকা গ্রাউন্ড ফ্লোরে কংক্রিটের লনে উপর থেকে ভারী কিছু পড়ার মতো জোরালো শব্দ হয়। ছুটে আসেন নিরাপত্তারক্ষী ও আবাসনের অন্যান্য বাসিন্দারা। এক বাসিন্দা বলেন, ‘রক্তাক্ত অবস্থায় এভাবে একজনকে পড়ে থাকতে দেখে আমরা চমকে উঠি। ওর দিদি তখনও কিছু জানতে পারেননি। আমারাই তাঁকে খবর দিই। তখনই জানতে পারি, দুই বোনের ঝগড়া হয়েছিল কিছুক্ষণ আগেও।’ লেক থানার পুলিস এসে তরুণীকে স্থানীয় নার্সিংহোমে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতের দিদিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিস। তারা জেনেছে, দুই বোনের আদিবাড়ি বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে। বাবার নাম গিয়াসুদ্দিন মোল্লা। কয়েকবছর আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন সায়নী। নিয়মিত চিকিৎসা চলছিল। মূলত সেই কারণেই যোধপুর পার্কে থাকতে হচ্ছিল তাঁকে। কিন্তু ইদানীং তরুণী ওষুধ খাচ্ছিলেন না। তা নিয়েই দিদি বকাবকি করেন। পারিবারিক বিষয় নিয়েও কথা কাটাকাটি হয়। তারপরেই এই ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিস। সায়নীর চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট, নথিপত্র ও ওষুধ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। পরিবারের তরফে এদিন রাত পর্যন্ত কোনও অভিযোগ করা হয়নি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ