নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পরীক্ষা দিতে না পারায় শুক্রবার বিকেলে বাড়ির মধ্যে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন এক কলেজ ছাত্রী। মৃতের নাম জয়শ্রী সরকার। তিনি বর্ধমান উইমেন্স কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তাঁর পরিবারের দাবি, তাড়াহুড়োয় তিনি টিকিট না কেটে রসুলপুর থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন। বর্ধমানে স্টেশনে তাঁকে ওই টিকিট পরীক্ষক আটকান। তাঁকে বর্ধমান স্টেশনের এক টিকিট পরীক্ষক দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন। কলেজে সেমেস্টার দিতে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। বিশ্বাস অর্জন করতে পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড দেখান। তারপরও তাঁকে না ছেড়ে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। হেনস্তাও করা হয়। পরে ফাইনও করা হয়। তিনি যখন পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছান, ততক্ষণে পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে। তিনি পরীক্ষা দিতে পারেননি। অভিমানে দুপুরের ট্রেন ধরে বাড়ি ফিরে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনায় পূর্ব রেলের সিপিআরও শিবরাম মাজি বলেন, ঘটনার খোঁজ নিচ্ছি। এমন হয়ে থাকলে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান মধুমালা মণ্ডল বলেন, রেলের অতি সক্রিয়তার জন্যই ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। পরীক্ষার নথি দেখানোর পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। সেটা তো করেননি, উল্টে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে ফাইন করেন। এই অমানবিক আচরণের জন্যই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচতি। এলাকার বাসিন্দা ওই ছাত্রী ইতিহাস অর্নাস নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। তাঁর বাবা জয়দেব সরকার পেশায় গাড়ি চালক। মা অঙ্গনাওয়াড়ি কর্মী। অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পড়াচ্ছিলেন। ওই ছাত্রী দুপুরের ট্রেন ধরে বাড়ি ফিরে একটি ঘরে ঢুকে যান। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি ওড়না জড়িয়ে আত্মহত্যা করেন। তাঁর মা বিএলওর কাজের জন্য ব্লক অফিসে ছিলেন। ওই ছাত্রীর সঙ্গে টিকিট পরীক্ষক খারাপ ব্যবহার করেছেন। সেই কারণে অপমানে তিনি অত্মহত্যা করেছেন। ছাত্রীর মামা রেলে চাকরি করেন। তিনি মামার সঙ্গে টিটির কথা বলিয়ে দেন। কিন্তু কোনো কথাই তিনি শুনতে চাননি। এই ঘটনার দায় ওই টিকিট পরীক্ষককে নিতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে মেমারি থানায় লিখিত অভিযোগ করা হবে। পরিবারের লোকজনরা বলেন, প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রী পড়াশোনা নিয়েই থাকতেন। তাঁর আত্মসম্মান বোধ অনেক বেশি ছিল। সেই কারণেই তিনি অপমান মেনে নিতে পারেননি। তিনি প্রতিদিনই টিকিট কেটেই কলেজে যান। এদিন তাড়াহুড়োই টিকিট কাটতে পারেননি। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ নিত্যানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রেলের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে। তা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। ওই ছাত্রী পাঁচ টাকার টিকিট কাটেনি বলে তাঁকে আটকে রেখে হেনস্তা করা হল। ছাত্রীর আত্মহত্যার দায় ওদেরকেই নিতে হবে। এদিন ছাত্রীর বাবা-মা কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না। পুরো পাড়া ঘটনায় শোকগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ওই ছাত্রীর শুধু বাবা বলেন, মেয়েটাকে স্টেশনে আটকে না রাখলে হয়তো তাঁকে এভাবে চলে যেতে হতো না।