Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কলেজের মহিলা কর্মীকে যৌন নিগ্রহ, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা

ময়না কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মহিলা কর্মীকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ। ১৭ জুলাই থানায় এফআইআর দায়ের, ঘটনার তদন্ত শুরু। বিস্তারিত পড়ুন।

কলেজের মহিলা কর্মীকে যৌন নিগ্রহ, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা
  • ২২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কলেজের মধ্যেই মহিলা অশিক্ষক কর্মীকে যৌন নিগ্রহে অভিযুক্ত স্বয়ং অধ্যক্ষ। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না কলেজে এমনই এক বেনজির ঘটনার অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় গোটা কলেজ। ওই কলেজের অস্থায়ী মহিলা কর্মী অধ্যক্ষ দিলীপকুমার পণ্ডার বিরুদ্ধে ময়না থানায় শ্লীলতাহানি, যৌন হেনস্তার অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত ১৭ জুলাই এনিয়ে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অস্থায়ী ওই কর্মীর অভিযোগ, গত এক বছর ধরে কলেজের অধ্যক্ষ তাঁকে মৌখিকভাবে এবং হোয়াটসঅ্যাপে কুপ্রস্তাব দিচ্ছেন। গত ৭জুলাই বিকাল ৪টা নাগাদ লাইব্রেরি রুমে কেউ ছিল না। সেই সময় কলেজের অধ্যক্ষ তাঁকে যৌন নিগ্রহ করেছেন। ঘটনার কথা কাউকে জানালে অধ্যক্ষ তাঁকে চাকরি থেকে বহিষ্কারের ভয় দেখিয়েছেন বলে ওই যুবতী পুলিশকে জানিয়েছেন। এনিয়ে ওই যুবতী মানসিক অবসাদেও ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন। গত ১৭জুলাই তিনি থানায় এফআইআর করেছেন। কলেজের ভিতরে এরকম ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে ময়নায়। এনিয়ে ময়না কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপবাবু বলেন, ‘আইন আইনের পথে চলবে। এনিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।
মঙ্গল ও বুধবার ময়না কলেজের অধ্যক্ষ ছুটিতে রয়েছেন। এই অবস্থায় ইনচার্জ হিসেবে ইতিহাসের অধ্যাপক সমীর মণ্ডল দায়িত্বে রয়েছেন। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটা নাগাদ কলেজের সেমিনার হলে সকল শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের নিয়ে এই ইস্যুতে একটি জরুরি মিটিং করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। সেখানে অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে কর্মীদের মতামত নেওয়া হয়। কর্মীদের একটা বড় অংশের বক্তব্য‌, ঩বিষয়টি থানা-পুলিশ অবধি গড়িয়েছে। সুতরাং কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে করণীয় কিছু নেই। তবে, জরুরিভিত্তিতে কলেজের প্রশাসক তথা পাবলিক ইনস্ট্রাকশন দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়কে জানানো হোক। সেইসঙ্গে দ্রুত সমাধান কীভাবে বেরিয়ে আসে তার ব্যবস্থা করা হোক।ময়না কলেজ বিল্ডিংয়ের দোতলায় প্রিন্সিপাল রুম, টিচার্স রুম এবং অফিস রুম। আর গ্রাউন্ড ফ্লোরে রয়েছে লাইব্রেরি রুম। গত ৪-৬ জুলাই ওই কলেজে ভারত সরকারের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রক এবং এনএসএসের যৌথ উদ্যোগে তিনদিনের বড় আকারের ‘স্বচ্ছতা অ্যাকশন প্ল্যান’ কর্মসূচি নেওয়া হয়। কলেজের ওই ক্যাজুয়াল মহিলা কর্মীর দাবি, ঘটনাটি ঘটেছে ৭ জুলাই। সেদিন বিকাল নাগাদ লাইব্রেরি রুমে কেউ ছিল না। ওই সময় তিনি অধ্যক্ষর কুনজরে পড়েন। যদিও অধ্যক্ষ ঘনিষ্ঠ কেউ কেউ বলছেন, এটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হোক। কারণ, অতীতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এধরনের কোনো অভিযোগ ওঠেনি। তিনি একজন ভালো মানুষ হিসেবেই পরিচিত। অভিযোগকারী বলেন, অধ্যক্ষ প্রায় এক বছর ধরে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে এবং মৌখিকভাবে কুপ্রস্তাব দিতেন। কখনো চাকরি বাতিলের ভয় দেখাতেন। তবে, ৭ তারিখ লাইব্রেরি রুমের ভিতর যা ঘটেছে তারজন্য প্রস্তুত ছিলাম না। ঘটনার পর মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে কাটাচ্ছিলাম। শেষমেশ ১৭ জুলাই থানায় এফআইআর করেছি।

Advertisement

 

 

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ