Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সার্ভের নামে ভোটার কার্ড, ছবি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ, বড়সড় চক্রের খোঁজ করছে বাঁকুড়া জেলা পুলিস

সার্ভের নামে ভোটার কার্ড, ছবি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ, বড়সড় চক্রের খোঁজ করছে বাঁকুড়া জেলা পুলিস
  • ২৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: সমীক্ষার নামে নথি ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পিছনে বড়সড় চক্র কাজ করছে বলে বাঁকুড়া পুলিস জানিয়েছে। সম্প্রতি বাঁকুড়া শহর থেকে ধৃত পাঁচ ‘সমীক্ষক’কে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ধৃতরা যেভাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর সহ অন্যান্য নথি সংগ্রহ করছিল, তাতে তাদের সঙ্গে সাইবার অপরাধীদের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে বাঁকুড়ার পুলিস সুপার জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওই চক্রের মূল মাথার খোঁজে পুলিস তল্লাশি শুরু করেছে। 

Advertisement

ধৃত পাঁচজনকে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিস বুধবার ফের আদালতে তোলে। তাদের মধ্যে একজনকে বিচারক দু’দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। বাকি চারজনকে ২ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সদর থানার পুলিস আরও দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে। তাদের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা এক ব্যক্তি ওই চক্রের অন্যতম পান্ডা বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। তাঁরা হেফাজতে থাকা যুবকের সঙ্গে দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে পুরো চক্রের কিনারা করতে চাইছেন।  
পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃতরা বারবার বয়ান বদলেছে। তারা কিছু গোপন করতে চাইছে বলে আমাদের সন্দেহ। তবে তারা বেশিদিন সবকিছু লুকিয়ে রাখতে পারবে না। ধৃতরা আধার, ভোটার কার্ড, ছবি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করেছিল। ওইসব নথি সংগ্রহের বৈধ ছাড়পত্র বা অনুমতি তারা কোথাও নেয়নি। ফলে ধৃতদের সঙ্গে সাইবার অপরাধের যোগ থাকতে পারে। আমরা সবকিছু খতিয়ে দেখছি। ওই চক্রের মূল মাথার কাছেও দ্রুত পৌঁছনো যাবে বলে মনে করছি। 
উল্লেখ্য, গত এক বছর ধরে জেলায় জেলায় ভোগ্যপণ্য প্যাকেজিংয়ের কাজ দেওয়ার নাম করে গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়াতেও ওই চক্রের সদস্যরা আধার, ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যকাউন্টের তথ্য, পাসপোর্ট ছবি সহ অন্যান্য নথির জেরক্স কপি সংগ্রহ করছে। তারা মূলত গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলাদের ‘টার্গেট’ করছে। বাড়িতে বসে রোজগারের আশায় অনেকেই জালিয়াতদের খপ্পরে পড়ছেন। সংবাদমাধ্যমে লেখালেখি ও পুলিসের তরফে সচেতনতামূলক প্রচারের ফলে ওই কারবার কিছুটা কমেছে। বর্তমানে নির্বাচন পূর্ববর্তী ‘ওপিনিয়ন পোলের’ নাম করে ফের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরাজ্যের পাশাপাশি বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকেও লোকজন এসে জঙ্গলমহলে ঘুরছে। 
বাঁকুড়া সদর থানায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুই যুবতীও রয়েছে। এর আগে জেলার তালডাংরা ও ইন্দাস থানা এলাকা থেকেও পুলিস কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তদন্তকারী এক আধিকারিক বলেন, ধৃতরা সকলেই যে জেনে বুঝে অপরাধীদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, তা নয়। অনেকেই বেকারত্বের জ্বালা থেকে মুক্তি পেতে সমীক্ষা চালানোর কাজ করছে। নথি ও তথ্য সংগ্রহের জন্য দৈনিক ৫০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। ফলে রোজগারের হাতছানি তারা এড়াতে পারছে না। বেকার যুবক-যুবতীদের ঢাল করে প্রতারকরা আড়ালে থেকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ