সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: পেশায় হাইস্কুল শিক্ষক। কিন্তু, নেশা মাকড়সা ও বোলতা ধরা। পাত্রসায়রের বালসি গ্রামের বাসিন্দা শুভাশিস পাল অবসর সময়ে সাইকেল নিয়ে খালবিল, নদীর ধারে ঝোপজঙ্গলে ঘুরে বোলতা ও মাকড়সা ধরেন। বালসি উচ্চবিদ্যালয়ের জীবনবিজ্ঞানের শিক্ষক শুভাশিসবাবুর সংগ্রহে প্রায় ৩০০প্রজাতির মাকড়সা ও শতাধিক প্রজাতির বোলতা রয়েছে। এসমস্ত প্রজাতির বিজ্ঞানভিত্তিক নাম ও তথ্য লিপিবদ্ধ করে কয়েকবছর আগে ‘পশ্চিমবঙ্গের মাকড়সা’ নামে একটি বই তিনি লিখেছেন।
শুভাশিসবাবু বলেন, এখন জমিতে অত্যধিক হারে কীটনাশক ও আগাছানাশক প্রয়োগের ফলে অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে উঠেছে। জীববৈচিত্র্য রক্ষা না করলে বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আগামী দিনে মানবজীবনে তার প্রভাব পড়বে। তাই জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা খুব দরকার।
বালসি রথতলায় শুভাশিসবাবুর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, ছোট ছোট ভায়ালে হরেক প্রজাতির মাকড়সা অ্যালকোহলে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে। নানা ছোটবড় মাকড়সা থেকে শুরু করে বিষাক্ত ট্যারান্টুলাও তাঁর সংরক্ষণে রয়েছে। কার্যত বাড়িতে মাকড়সার সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন তিনি। নতুন প্রজাতির মাকড়সা পেলেই ধরে আনেন। মাইক্রোস্কোপের তলায় রেখে পর্যবেক্ষণ করেন। তার ছবি ও বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ করে বিভিন্ন গবেষণাগারে পাঠান। সংগৃহীত কয়েকটি নতুন প্রজাতির মাকড়সা সম্পর্কে শুভাশিসবাবুর লেখা বিভিন্ন বিজ্ঞান জার্নালেও প্রকাশিত হয়েছে।
শুভাশিসবাবু জানালেন, ১৯৯৫সাল থেকে তিনি মাকড়সা সংরক্ষণ শুরু করেন। সেই সময় দার্জিলিং বেড়াতে গিয়ে একটি পিঁপড়ের মতো মাকড়সা তাঁর নজরে আসে। তিনি সেটি ধরে আনেন। বাড়িতে মাইক্রোস্কোপের তলায় দেখে সেটি কোন প্রজাতির-তা শনাক্ত করেন। তখন থেকে নতুন নতুন প্রজাতির মাকড়সার খোঁজে খালবিল, নদীর ধারে ঘুরে বেড়ান। এছাড়া, পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গলে বেড়াতে গিয়েও নতুন নতুন প্রজাতির মাকড়সার খোঁজ করেন। পরে বিভিন্ন প্রজাতির বোলতাও সংগ্রহ শুরু করেন। ৩০বছর ধরে তিনি এই কাজ করে আসছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য ও ছবি সম্বলিত তাঁর বই জীববিজ্ঞানের পড়ুয়া ও গবেষকদের খুব কাজে লাগবে। শুভাশিসবাবু বলেন, অনেকসময় নতুন প্রজাতির মাকড়সা নজরে এলেও তা ধরা সম্ভব হয় না। তাই প্রথমেই ছবি তোলার চেষ্টা করি। পরে মাকড়সা ধরার চেষ্টা করি। দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য মৃত মাকড়সা ছোট ছোট ভায়ালে অ্যালকোহলে ডুবিয়ে রাখি। -নিজস্ব চিত্র