Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাছ পাহারায় ছ’টি সিসি ক্যামেরা! প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকের কান্দির বাড়ির পুকুর ঘিরে রহস্য

যাবতীয় কৌতূহল মেটাতে পুকুরটি সেচে মেরে ফেলার দাবি তুলছেন স্থানীয়রা।

মাছ পাহারায় ছ’টি সিসি ক্যামেরা! প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকের কান্দির বাড়ির পুকুর ঘিরে রহস্য
  • ৩০ মে, ২০২৬ ০৪:০০

ইন্দ্রজিৎ কর্মকার, কান্দি: প্রাসাদোপম বাড়ি। তার ভিতর মাঝারি মাপের একটি পুকুর। চারটি পাড়ে ছ’টি সিসি ক্যামেরায় নজরদারি! সামান্য এক পুকুর ঘিরে কেন এমন কঠোর নিরাপত্তা? পুকুরে কি কোনো গুপ্তধন কিংবা সোনা-দানা ভরতি বাক্স নাকি গোপন নথিপত্র ডুবিয়ে রাখা হয়েছে? আবার এমন প্রশ্নও উঠছে, তদন্ত-তল্লাশি চলাকালীন বেশ কয়েকটি মোবাইল খুঁজেছিলেন ইডির তদন্তকারীরা। সেগুলি পুকুরে স্থান পায়নি তো? রাজ্যের প্রাক্তন পুলিশ অফিসার শান্ত্বনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়ির ওই পুকুর ঘিরেই এমনই একাধিক প্রশ্ন ভেসে বেড়াচ্ছে কান্দি শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বাসপাড়ায়। যাবতীয় কৌতূহল মেটাতে পুকুরটি সেচে মেরে ফেলার দাবি তুলছেন স্থানীয়রা। 

Advertisement

গত ২২ মে শান্ত্বনুবাবুর কান্দির এই বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। তল্লাশি চলেছিল প্রায় ১৫ ঘণ্টা। ফের ২৬ মে সকাল ১১ টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত তদন্ত-তল্লাশি চলে। সন্ধ্যায় ইডি আধিকারিকরা বাড়ির সমস্ত দরজা সিল করে কান্দি থানায় চাবি জমা দিয়ে যান। জানা গিয়েছে, একাধিক ঘরে তল্লাশি চালিয়ে বহু নথি লিপিবদ্ধ করা হয়। কিছু নথিপত্র সঙ্গে করেও নিয়ে যান তদন্তকারীরা।
গোটা বাড়িটি সিসি ক্যামেরায় মোড়া। প্রায় ১৪ ফুট উচ্চতার পাঁচিলে রয়েছে ১৬টি সিসি ক্যামেরা। পাঁচিলের ভিতরে থাকা পুকুরটি  বিঘাখানেক জমি নিয়ে। পুকুরের দিকে তাক করে রয়েছে ছ’টি সিসি ক্যামেরা। বাসিন্দাদের সন্দেহ মূলত তা নিয়েই। যদিও ইডি আধিকারিকদের পুকুরের দিকে খুব একটা নজর দিতে দেখা যায়নি। অধিকাংশ সময় তাঁরা বাড়ির ভিতরেই সময় কাটিয়েছেন। 
এখন বাসিন্দারা চাইছেন পুকুরের রহস্যভেদ করুক কেন্দ্রীয় তদন্তকারি এজেন্সি। শান্ত্বনুবাবুর এক প্রতিবেশী শুক্রবার বলছিলেন, নতুন করে তৈরির পর বাড়ির ভিতরে কোনওদিন ঢোকার সুযোগ পাইনি। তবে শুনেছি পুকুরে বড় বড় মাছ রয়েছে। কিন্তু সেই মাছ পাহারা দিতে এতগুলি সিসি ক্যামেরা লাগাতে পারেন, তা দেখে আমরা বিস্মিত। শান্ত্বনুবাবুর বাড়ির একেবারে গা লাগোয়া এক মহিলা বললেন, ‘শান্ত্বনুবাবু সচারাচর এখানে আসেন না। ভোট প্রক্রিয়া শুরুর পর তাঁকে একদিনের জন্যও দেখা যায়নি। সাতমাস আগে একবার তিনি এসেছিলেন। ওইদিন গভীর রাতে কয়েকজনকে নিয়ে তাঁকে পুকুরের পাড়ে দেখা গিয়েছিল।’
কান্দির বাসিন্দা তথা বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য গৌরাঙ্গ গোপাল সাহা বলেন, ‘পুকুরের ভিতর কী রয়েছে, সেটা জানতে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন। জমিদারি আমলের কোনো গুপ্তধন, নাকি সাম্প্রতিক সময়ে সঞ্চয় করা সোনাদান পুকুরে বাক্সবন্দি করে ডোবানো হয়েছে কিনা, তা জানার ইচ্ছে অনেকের। আবার ওঁর গ্রেপ্তারের পর একাধিক মোবাইল উদ্ধার করতে পারেনি ইডি। বড়ঞার প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার মতো তিনিও মোবাইলগুলি পুকুরে ছুড়ে ফেলেছেন কিনা পরিস্কার হোক।’ কান্দি শহর বিজেপি নেত্রী বিনীতা রায় বলেন, ‘আমরা চাই পুকুরের জল সেচে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে দেখুক ইডি। যে পুকুরের দিকে ছ’টি সিসি ক্যামেরা তাক করে রাখা হয়েছে, সেটা কোনো সাধারণ ব্যাপার হতে পারে না।’  রহস্যের কেন্দ্রে এই পুকুর। নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ