নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাস্তায় ভ্যান রাখা নিয়ে বচসা। তার জেরে সহকর্মীকে খুনের অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করল মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ। রবিবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যমগ্রামের রোহন্ডা চণ্ডীগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের জোজরা গ্রামে। পুলিশ জামিয়েছে, মৃতের নাম সিন্টু রাজবংশী (২৬)। তাঁর বাড়ি বিহারের গয়া জেলায়। গত চার বছর ধরে রোহন্ডা–চণ্ডীগড় পঞ্চায়েত এলাকার একটি ইটভাটায় কাজ করতেন তিনি। একই ভাটায় কর্মরত রঞ্জিত মাঝি ও শংকর রাজবংশীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শংকর জখম অবস্থায় পুলিশি পাহারায় বারাসত মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ছিল শ্রমিকদের ‘হপ্তা’র দিন। শিবরাত্রি উপলক্ষে সন্ধ্যার পর কয়েকজন শ্রমিক একত্রিত হয়ে মদ্যপান করেন ভাটার পাশে। অভিযোগ, তখন ইটভাটার ভিতরে একটি ভ্যান কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়। মদ্যপ অবস্থায় বচসা দ্রুত হাতাহাতিতে গড়ায়। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এরপর রঞ্জিত ও শংকর সবজি কাটার ছুরি দিয়ে সিন্টুর পেটে কোপ মারেন। গুরুতর জখম হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। অন্য শ্রমিকরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে খুন সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সময় উপস্থিত অন্যান্য শ্রমিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিহত সিন্টুর স্ত্রী মিনা দেবী বলেন, রাতে ওরা সবাই মদ্যপ অবস্থায় ঝগড়া করছিল। তার মধ্যেই হঠাৎ করে ছুরি চালানো হয়। সামান্য বিষয় থেকে এমন কাণ্ড হয়ে গেল। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার প্রিয়ব্রত রায় বলেন, খুনের ঘটনায় দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।