সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ঠান্ডা এখনও জাঁকিয়ে পড়েনি। কিন্তু ঘরে ঘরে সর্দি-কাশির প্রকোপ। ডাক্তারের চেম্বার, সরকারি হাসপাতালে এই রোগীর ভিড় বাড়ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি দেখা দিচ্ছে। শীতের মুখে শিলিগুড়িতে সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টে প্রকোপ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভিলেন ধুলো। শিলিগুড়ি শহরে বায়ু দূষণ বিপজ্জনক জায়গায় চলে যাওয়ার দিকটি আগেই ধরা পড়েছে। এবার এই দূষণকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে ধুলো। গোটা শহরে ধুলো উড়ছে। ডাক্তাররাও সেটা মনে করছেন। তাঁদের বক্তব্য, দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা থাকলেও এই সময় অন্যান্যবার এত সর্দি-কাশির রোগী হয় না। এবার সেভাবে শীত পড়তে না পড়তেই ব্যাপক হারে মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। শিশুরাও বাদ যাচ্ছে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট থাকছে। এর অন্যতম সম্ভাব্য কারণ ধুলোময় শহর।
শহরবাসীর বক্তব্য, শিলিগুড়িতে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল পাতার জন্য বহু জায়গায় রাস্তা গর্ত করা হয়েছে। কাজ করার পরেও রাস্তা মেরামত হয়নি। সেই মাটি থেকেই ধুলোয় ঢেকেছে শহর। রাস্তা দিয়ে চলা যায় না। ধুলো থেকে বাঁচতে সচেতন নাগরিকরা মাস্ক ব্যবহার করছেন। যদিও সেই সংখ্যা খু্ই সামান্য।
এমনিতেই শহরের যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বায়ু দূষণ বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছেছে। তারসঙ্গে ধুলো যোগ হওয়ায় ফুসফুসের নানা ধরনের রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ছে বলে জানান চেস্ট মেডিসিনের বিশিষ্ট ডাক্তার অরিত্র গঙ্গোপাধ্যায়। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের এই প্রাক্তন চিকিৎসক বলেন, শিলিগুড়িতে বায়ু দূষণ ও ধুলোর মাত্রা যে জায়গায় পৌঁছেছে, তাতে মাস্ক সকলকে ব্যবহার করতেই হবে। সেই সঙ্গে সচেতনতার প্রয়োজন। সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যাওয়াটা খুবই জরুরি। তিনি বলেন, সর্দি-কাশির যত রোগী পাচ্ছি, তাতে দেখা যাচ্ছে ডাস্ট অ্যালার্জি অন্যতম সম্ভাব্য কারণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগী শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি নিয়ে আসছেন। এবার অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ তাড়াতাড়ি কাজ করছে না। অনেকদিন ধরে খেতে হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাঃ দীপাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুবল দত্ত জানান, এবার শীত পড়তে না পড়তেই সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টের রোগী বেশি আসছেন। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সচেতন হওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, শিলিগুড়ি শহরের রাস্তা কেটে ফেলে রাখার ফলে ধুলো যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তাতে পুরসভা কী পদক্ষেপ করছে? শিলিগুড়ির ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার বলেন, বিষয়টিতে আমাদের নজরে রয়েছে। আমরা রাস্তায় জল দেওয়া শুরু করেছি। আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল পাতার কাজ ৮০ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের কাজ
শুরু হবে।