Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধুলোর জেরে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি, মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ চিকিৎসকদের

ধুলোর জেরে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি, মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ চিকিৎসকদের
  • ১৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি-কাশি। শিশু থেকে বয়স্ক কেউই রেহাই পাচ্ছেন না। শিলিগুড়িতে ডাক্তারের চেম্বার থেকে শুরু করে ওষুধের দোকানে ভিড় উপচে পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে ডাক্তারদের নিদান, মাস্ক ব্যবহার করতেই হবে। শিলিগুড়ির আবহাওয়ায় যেভাবে ধুলো উড়ছে তাতে ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রেসপিরেটরি ট্র্যাক। 

Advertisement

এবার শীতে বৃষ্টি সেভাবে হয়নি। বাতাসে ধুলো বেড়েছে। শিলিগুড়িতে এই ধুলো আরও বেড়েছে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবলের জন্য বিস্তীর্ণ এলাকায় মাটি খোঁড়াখুঁড়ি হওয়ায়। রাস্তা দিয়ে গাড়ি যাওয়ার পর চারদিক ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ কারণে ভয়ঙ্করভাবে ফুসফুস ও রেসপিরেটরি ট্র্যাক সংক্রমণ হচ্ছে। তার থেকে সর্দি-কাশি, জ্বর হচ্ছে। বেশি কাহিল হচ্ছে শিশুরা। 
শিলিগুড়ির শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুবল দত্ত বলেন, প্রতিদিন এ ধরনের প্রচুর রোগী পাচ্ছি। শুকনো কাশির সঙ্গে কারও কারও সর্দি থাকছে। সেইসঙ্গে প্রবল জ্বর। প্রতিটি বাচ্চারই টনসিল থেকে শুরু করে রেসপিরেটরি ট্র্যাকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। পাঁচ থেকে সাতদিন ওষুধ খাওয়ার পর সুস্থ হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে গেলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। 
করোনা চলে গিয়েছে। কিন্তু মাস্ককে কোনওমতেই ছাড়া যাবে না। ধোঁয়া ও ধুলোময় শিলিগুড়িতে মানুষকে মাস্ক নিত্যসঙ্গী করেই চলতে হবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। চেস্ট মেডিসিনের ডাঃ অরিত্র গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, শিলিগুড়িতে যেভাবে রাস্তার মধ্যে বালি ফেলে নির্মাণ কাজ হয় তাতে বাতাসে ধুলো বেড়েছে। এর পাশাপাশি স্কুটার, বাইক সহ অন্যান্য যানবাহনের ধোঁয়ায় পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। এ কারণেই শিলিগুড়িতে ফুসফুসের সমস্যা তথা শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। 
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুকনো কাশি। কফ উঠছে না। কাশতে কাশতে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ হচ্ছে না। ইনহেলারের সাহায্যে এদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। মেডিক্যালে চেস্ট মেডিসিনের আউটডোরে আসা সুভাষপল্লির মানব বর্ধন বলেন, বাড়ির সামনে রাস্তা খোঁড়ায় গাড়ি গেলই ধুলো উড়ছে। ঘরের ভিতরে আসবাবপত্রে ধুলোর চর জমেছে। বৃষ্টি না হলে এর থেকে রেহাই নেই। সর্দি-কাশি সারছেই না। এদিন চিকিৎসক দেখিয়ে ওষুধ নিলাম। ডাক্তারবাবু প্রয়োজনে ঘরেও মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ