নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রানাঘাট-২ব্লকের একটি বড় অংশের মানুষ ফুল চাষের সঙ্গে যুক্ত। নোকাড়িতে রয়েছে জেলার বৃহত্তম ফুল বাজার। বাম আমলে তৈরি হওয়া হিমঘর আজও ব্যবসায়ীদের জন্য চালু করতে পারল না প্রশাসন! প্রায় এক যুগ কেটে যাওয়ার পরেও প্রশাসনের মুখে স্রেফ আশার বাণী ছাড়া আর কিছুই নেই। আর এদিকে, প্রায় এক যুগ ধরে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার চাষের ফুল নষ্ট হচ্ছে হিমঘরের অভাবে।
প্রশাসনের একটি সূত্র বলছে, রানাঘাট-২ব্লকের কমবেশি প্রায় ১২-১৪ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ফুল চাষ এবং সেই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাদের একাংশের নিজস্ব জমি থাকলেও, অধিকাংশ মানুষ ভাগচাষি হিসেবেই কাজ করেন। শুধুমাত্র নদীয়া জেলাতেই নয়, রাজ্য ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, এমনকী, প্রতিবেশী নেপাল ও ভুটানেও সরবরাহ হয় নোকাড়ি, পুরাতন চাপড়া, পানিখালি, পূর্ণনগরের মতো এলাকার গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা ও অর্কিড। নোকাড়িতে রয়েছে পৃথক পাইকারি ফুল বাজারও। যা এই ব্লকের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এমতাবস্থায় ব্যবসায়ী ও চাষিদের জন্য হিমঘরের প্রয়োজন রয়েছে। তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বাম আমলের শেষের দিকে। ২০১০ সাল নাগাদ নোকাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পাশে প্রায় চার বিঘা জমিতে একটি হিমঘর তৈরি হয়। সেই সময় খরচ হয়েছিল প্রায় তিন কোটি টাকা। হাতে গুনে কয়েকদিন চালু হলেও সেই হিমঘর শেষে বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত আর তালা খোলা হয়নি সেই হিমঘরের। এদিকে, দিনের পর দিন বন্ধ থাকায় তার অধিকাংশ যন্ত্রাংশই বিকল হয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ ফুল চাষিদের একাংশের অভিযোগ, প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। না হলে তৈরি হওয়ার পরেও এক যুগ ধরে কীভাবে একটি হিমঘর বন্ধ পড়ে থাকে? চাষি লক্ষীকান্ত বিশ্বাস বলেন, সাংসদ অথবা বিধায়করা নিজস্ব তহবিলের টাকা খরচ করে হিমঘর চালু করতে পারতেন। অথবা জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় খরচ করে হিমঘরটি খুলতে পারতো। তাহলে আমাদের মতো কয়েকশো চাষিকে প্রতিদিন ফুল নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না। অপর এক চাষি গোবিন্দ সরকার বলেন, প্রশাসনের দুয়ারে গেলেই শুধু আশ্বাস শুনতে হয়। কিন্তু বাস্তবে কবে যে চালু হবে, তার কোনও ঠিক নেই। নির্বাচনের সময় ফুল চাষিদের কথা মনে পড়ে সমস্ত রাজনৈতিক দলের। আর এই সাধারণ কাজটুকু করার জন্য কাউকেই পাওয়া যায় না।
ব্লক প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, সম্প্রতি আমরা নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছি। ওই হিমঘর দ্রুত চালু করা হবে। কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ পড়ে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। ফুল চাষিদের দাবি মেনেই নবরূপে হিমঘর চালু হবে।