নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আঁচ বাড়ছে আন্দোলনের। বুধবার বেঙ্গালুরু, আর রবিবার দিল্লি। ককরোচ-বিক্ষোভের লক্ষ্য একটাই—মোদি সরকার। জেন জি’দের খোলা চ্যালেঞ্জ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফা দিতেই হবে। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে বিক্ষোভ-কর্মসূচির মাধ্যমে এই দাবির তীব্রতা বাড়বে। কারণ, অকুস্থল হতে চলেছে সেই দিল্লি। এবার ‘যন্তরমন্তর ২.০’। আন্দোলনের জমি প্রস্তুত করছে তরুণ প্রজন্ম। সেই আবহেই অভিজিৎ দিপকের হুংকার, ‘দিল্লিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অশান্ত করার ছক কষছে পুলিশ। সিজেপির ফান্ডিং নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছে। বিমানের টিকিট কে বা কারা কেটে দিচ্ছে, বারবার তা জানতে চাওয়া হচ্ছে। অযথা জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। ১০ই কোনো অশান্তি হলে তার দায় স্বৈরাচারীকেই নিতে হবে।’ কে এই স্বৈরাচারী? দিপকে নাম না করলেও বুঝিয়ে দিয়েছেন—নরেন্দ্র মোদি।
কেন্দ্র-জেন জি সংঘাত প্রতিদিন তীব্রতর হচ্ছে। গান্ধী জয়ন্তীতে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে জ্ঞানেশ বিরোধী যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা গতি পাচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির প্রধানের বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘পুলিশ সিজেপির কর্মী, সমর্থকদের হুমকি দিচ্ছে। চিঠি পাঠিয়ে বলছে, যাতে কেউ দিল্লির আন্দোলনে যোগ না দেয়। বলা হচ্ছে, আন্দোলনে গোলমাল বাঁধবে। পুলিশ কীভাবে আগেই জানতে পারছে, পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠবে? তাহলে কি তারাই কোনো পরিকল্পনা করছে আমাদের বদনাম করার?’
‘ককরোচ’দের এই উত্তাপের মধ্যে অবশ্যই বাড়তি অক্সিজেন জোগাচ্ছে বিরোধী এমপিদের মঙ্গলবারের বিক্ষোভ-ধরনা। বিষয়টা যে শুধু ককরোচে থেমে নেই এবং ১০ তারিখও থাকবে না, তা পরিষ্কার। মোদি সরকার তথা দিল্লি পুলিশের কাছে সবথেকে বেশি উদ্বেগের বিষয় হল, ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তরমন্তরে পৃথক বিক্ষোভ-সমাবেশের ডাক দিয়েছে সবক’টি বাম ছাত্র সংগঠন। এদিন দিল্লিতে সিপিএম কার্যালয়ে বৈঠকের পর একযোগে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলি। মহিলা সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ব্যাকফুটে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতাভুক্ত দিল্লি পুলিশ। যদিও তাদের সাফাই, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। অভিযোগের তির সিজেপির দিকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারিও বাড়াচ্ছে দিল্লি পুলিশ।