Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সীমান্তের গ্রামে এবার মজুত হচ্ছে কোকেন, সুযোগ বুঝে ওপারে পাঠানোর ছক

প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে অশান্তির সুযোগে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য পাচারের পরিকল্পনা চলছে। বাংলাদেশে পাচারের আগে সীমান্তের গ্রামে কোটি কোটি টাকার কোকেন মজুত করা হচ্ছে।

সীমান্তের গ্রামে এবার মজুত হচ্ছে কোকেন, সুযোগ বুঝে ওপারে পাঠানোর ছক
  • ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে অশান্তির সুযোগে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য পাচারের পরিকল্পনা চলছে। বাংলাদেশে পাচারের আগে সীমান্তের গ্রামে কোটি কোটি টাকার কোকেন মজুত করা হচ্ছে। এই কোকেন কোথা থেকে আসছে, পুলিশ তা বুঝতে পারছে না। কোকেনের পাশাপাশি নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচার করতে উঠে পড়ে লেগেছে মাদক কারবারিরা।

Advertisement

গত বুধবার গভীর রাতে ভগবানগোলা থানার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চর বিনপাড়া এলাকায় অভিযান চালানোর সময় ৩১৬গ্রাম কোকেন বাজেয়াপ্ত করা হয়। তবে, ওই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে বাজেয়াপ্ত মাদকের দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা। পরবর্তীতে বাজেয়াপ্ত কোকেন ভগবানগোলা থানার পুলিশকে হস্তান্তরিত করা হয়। ভগবানগোলা থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, সেগুলি সুযোগমতো বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্য ছিল। এক মাদক কারবারি বাড়ি সংলগ্ন একটি পাত্রে মজুত রেখেছিল নিষিদ্ধ মাদক। প্রাথমিক অনুমান, বাইরে থেকে মাদক এনে লুকিয়ে রাখা হচ্ছে।
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভগবানগোলা থানার হনুমন্তনগর পঞ্চায়েতের চর বিনপাড়ায় এক ব্যক্তি সম্প্রতি ভিনরাজ্য থেকে মাদক এনে বাড়িতে মজুত করে। গোপন খবরের ভিত্তিতে বুধবার গভীর রাতে চর লবণগোলা সীমা চৌকির ১৪৯নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা চর বিনপাড়ার এক ব্যক্তির বাড়ি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় তল্লাশি চালায়। বেশ কিছুক্ষণ ধরে তল্লাশি চালিয়ে একটি বাড়ি থেকে কয়েক মিটার দূরে ঝোপের মধ্যে থেকে কোকেনের প্যাকেট বাজেয়াপ্ত করা হয়। বাজেয়াপ্ত কোকেন অত্যন্ত উন্নতমানের বলে বিএসএফ আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন। এদিকে আগাম বিএসএফ অভিযানের খবর পেয়ে ওই মাদক কারবারি ও তার পরিবারের লোকজন অন্যত্র পালিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, ভগবানগোলা থানার চর লবণগোলায় বেশ কিছুটা সীমান্ত এলাকায় কোনও কাঁটাতারের বেড়া নেই। চোরাচালানকারী থেকে মাদক কারবারিরা ওই উন্মুক্ত সীমান্ত এলাকাকে টার্গেট করে। বিএসএফ ও পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে বছরভর সীমান্তের ওপারে পাচার, মাদক কারবার চললেও শীতের সময়ে সক্রিয়তা বাড়ে। মূলত এই সময়ে সীমান্তের কনকনে ঠান্ডা ও কুয়াশাকে ঢাল করে চোরাচালান এবং মাদক কারবারের রমরমা শুরু হয়। যদিও চোরাচালান ও মাদক কারবারে রাশ টানতে পুলিশ ও বিএসএফ এককভাবে, আবার কখনও যৌথভাবে অভিযান চালায়। তারপরও ভিনরাজ্য থেকে মাদক এনে প্রথমে মজুত করা হচ্ছে। সুযোগ বুঝে তা পাচার করছে কারবারিরা।
বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ আধিকারিক বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর চোরাচালান দমনের জন্য বিএসএফ জওয়ানরা সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। অবিরাম নজরদারি ও কৌশলগত অভিযানের মাধ্যমে বড় ধরনের চোরাচালানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হচ্ছে। বিএসএফ সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এদিকে দু’দিন আগেই, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ওপারে কাশির সিরাপ পাচার করা হচ্ছিল। রানিনগরের পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক টোটো চালককে গ্রেফতার করে। ধৃতের কাছ থেকে ১০৩২বোতল সিরাপ বাজেয়াপ্ত হয়েছে। অভিযুক্ত জেরায় জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী গ্রামে একটি বাড়িতে সিরাপগুলি মজুত ছিল। সেগুলি টোটোর সিটের তলায় লুকিয়ে সীমান্তের দিকে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল তার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ