Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিল্পাঞ্চলের চোরাই বাইকে চলছে ঝাড়খণ্ডের খাদানে কয়লা পরিবহণ

শিল্পাঞ্চলের চোরাই বাইকে চলছে ঝাড়খণ্ডের খাদানে কয়লা পরিবহণ
  • ১৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রেল শহর চিত্তরঞ্জনে বাইক চোরের আতঙ্ক গ্রাস করেছিল। সিএলডব্লু কারখানার ট্রাকসন মোটর ওয়ার্কশপের পাশ থেকে তিন মাসে তিনজন রেলকর্মীর বাইক চুরি হয়েছে। সংরক্ষিত শহরে চোরের উপদ্রবে চাপে পড়েছিল আরপিএফ ও পুলিস। তদন্তে নেমে তারা বাইক চুরির বড় চক্রের খবর পায়। তারা জানতে পারে, শুধু চিত্তরঞ্জন নয়, শিল্পাঞ্চলের বহু বাইক চুরির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলার বকরিদ মিয়া। সে মূলত খাদানে চোরাই বাইক সাপ্লাইয়ের ‘ডিলার’। বিভিন্ন বাইক চোর তার চাহিদামতো বাইক চুরি করে সরবরাহ করে। 

Advertisement

বকরিদের ‘চ্যালা’রা চিত্তরঞ্জনে ফের বাইক চুরি করতে ঢুকেছে বলে আরপিএফের কাছে খবর আসে। বুধবার তারা ফাঁদ পাতে। ‘মাস্টার কি’ দিয়ে বাইক চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে বিকাশকুমার পণ্ডিত ও নাসিরুদ্দিন আনসারি। তাদের জেরা করেই বকরিদের ডেরা নিশ্চিত করে পুলিস ও আরপিএফ। রাতেই কার্মাটাঁড়ে তার ডেরায় অভিযান চলে। সেখানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনটি চোরাই বাইক তখনও তার ডেরায় ছিল। যদিও সেই বাইকগুলি চিত্তরঞ্জনের খোয়া যাওয়া বা‌ইক না হওয়ায় স্থানীয় পুলিস তা বাজেয়াপ্ত করে পৃথক মামলা রুজু করেছে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের এসিপি জাভেদ হোসেন বলেন, বকরিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বহু বাইক চুরির কিনারা হবে। 
খাদান থেকে কয়লা চুরিতে বাইক ব্যবহার হয়। পিছনে অতিরিক্ত সকার লাগিয়ে বিপুল পরিমাণ কয়লা পরিবহণ হয় বাইকে। একেবারে খাদানে নেমে কয়লা তুলে তা পাচার করা যায়। বড় গাড়ি ছোট রাস্তায় ঢুকতে না পারলেও বাইক অলিগলিতে দিয়ে ঢুকে কয়লা পাচার করে। প্রায় দু’বছর ধরে কয়লা চোরদের সেই বাইকের জোগানই দিয়ে চলেছেন কার্মাটাঁড়ের বকরিদ। পুলিস জানতে পেরেছে, বাইক চোরদের কাছ থেকে পাঁচ-১০ হাজার টাকায় বাইক কেনে সে। তারপর ১৫-২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। তবে যেমন খুশি বাইক চুরি করলে হবে না। কয়লা মাফিয়াদের চাহিদা অনুযায়ী বাইক দিতে হবে। তাই বকরিদও তার চ্যালাদের জানিয়ে দেয় কোন কোম্পানির কী মডেলের বাইক চুরি করতে হয়। এরপর তারা শিল্পাঞ্চলের  নানা প্রান্তে সেই ধরনের বাইকের সন্ধান চালাত। সুযোগ পেলেই বাইক চিহ্নিত করে মাস্টার কি দিয়ে তা চালু করে চম্পাট দিত। তা নিয়ে যাওয়া হতো বকরিদের ডেরায়। 
পুলিসি জেরায় বকরিদ স্বীকার করেছে, শিল্পাঞ্চলের ৭০-৮০টি বা‌ইক সে এভাবে পাচার করেছে। বৃহস্পতিবার চিত্তরঞ্জন থানার পুলিস মাস্টারমাইন্ড সহ তিনজনকে আসানসোল আদালতে তোলে। বিচারক সাতদিন পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ