সোমনাথ বসু, কলকাতা: আশা জাগিয়েও বুধবার ডুরান্ড কাপ থেকে বিদায় নিল ইস্ট বেঙ্গল। সুপার সানডে’তে মোহন বাগানকে হারানোর পর বাংলার মেঘলা আকাশে আশার ফানুস উড়িয়েছিলেন লাল-হলুদ সমর্থকরা। সেমি-ফাইনালে প্রতিপক্ষ ডায়মন্ডহারবার এফসি’কে কেউই তেমন গুরুত্ব দেননি। একই ভুল করেছেন ইস্ট বেঙ্গলের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। ফুটবলারদের আত্মতুষ্টির দিকে নজর দেওয়ার সময়ই তাঁর ছিল না। ডার্বি জিতে সমর্থকদের মতো তিনিও সপ্তম স্বর্গে ভাসছিলেন, যা আদৌ কাঙ্ক্ষিত নয়। যতদূর মনে পড়ে, ২০১২ সালে স্পোর্টিং ক্লাব দ্য গোয়ার কোচ হিসেবে ভারতীয় ফুটবলে অস্কারের পথ চলা শুরু। তা সত্ত্বেও কলকাতার ফুটবলের পালস তাঁর অজানা? বড় ম্যাচের পর কীভাবে খেলোয়াড়দের আগলে রাখতে হয় তা তিনি এখনও শিখে উঠতে পারেননি।
গত কয়েকটি মরশুমের তুলনায় এবার ইমামি ইস্ট বেঙ্গল দলে ভারসাম্য অনেক বেশি। তাই ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারেন ক্লাব অন্ত প্রাণ সমর্থকরা। কিন্তু তাঁর জন্য প্রয়োজন ফাইন টিউনিং। এই দায়িত্ব তো কোচেরই। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রতিটি চেঞ্জই প্রমাণ করে যে, কোচ হিসেবে তাঁকে আরও পরিণত হতে হবে। ডায়মন্ডহারবারের বিরুদ্ধে কেন তিনি শৌভিক চক্রবর্তীকে না নামিয়ে দুম করে জিকসন সিংকে পরিবর্ত হিসেবে ব্যবহার করলেন? গ্যালারির চাপ নেওয়ার ক্ষমতা এখনও হয়নি মণিপুরী মিডিওর। এছাড়া বিষ্ণুকে নামানো উচিত ছিল ৬০-৬৫ মিনিটের মধ্যে। কিন্তু তা না করে অস্কার ম্যাচের একেবারে শেষদিকে তাঁকে খেলালেন! তিনি কি ভেবেছিলেন, ওই অল্প সময়ের মধ্যে মিডাস টাচে সমতায় ফেরাবেন বিষ্ণু? আর একটা কথা, ৭৩ মিনিটে সাউল ক্রেসপোকে তুলে রশিদকে নামানো যুক্তিহীন। পিতৃবিয়োগের শোক কাটানোর আগেই তাঁকে ফিরিয়ে আনা হল কলকাতায়। বিমানযাত্রার ধকল তাই রশিদের পারফরম্যান্সে থাকবেই। সেটাই বিজ্ঞান, স্বাভাবিকও বটে।
আগেই লিখেছি, ইমামি ইস্ট বেঙ্গল এবার আগের চেয়ে শক্তিশালী। কিন্তু ডায়মন্ডহারবার ম্যাচ বেশ কয়েকটি দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল অত্যন্ত সাধারণ মানের। গত মরশুমেও তাঁর ভুলের মাশুল দিয়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। গিলের বিকল্প দ্রুত খুঁজে নেওয়া উচিত লগ্নিকারী সংস্থার। কারণ, দ্বিতীয় গোলরক্ষক দেবজিৎ মজুমদার এখন অতীতের ছায়া। এছাড়া উইং ব্যাক পজিশনেও বিস্তর গলদ। লালচুংনুঙ্গা এবং রাকিপ— দু’জনেই অচল। নুঙ্গা স্বাস্থ্যবান, তবে বুদ্ধিমান নয়। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভুল করে দলকে ডোবাতে তিনি ওস্তাদ। আর রাকিপ? দৌড়ান বেশ ভালো। কিন্তু ফুটবলারের পরিবর্তে তিনি অ্যাথলিট হলেই ইমামি ইস্ট বেঙ্গলের ভালো হতো। একই অবস্থা দুই উইং হাফেরও। বিপিন সিং সেরা সময় পেরিয়ে লাল-হলুদ জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন। আর এডমুন্ড মোটেই বিশাল প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন নন। আধুনিক ফুটবলে উইং হাফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পজিশন। আর এই জায়গাতেই পিছিয়ে ইমামি ইস্ট বেঙ্গল।
সবশেষে একটা কথা না লিখলেই নয়। বিনো জর্জ কিংবা থংবই সিংটো কখনওই কোচ অস্কার ব্রুজোঁর গাইড হতে পারবেন না। তাই স্প্যানিশ কোচকে সুপরামর্শ দেওয়ার জন্য সঞ্জয় সেনের মতো অভিজ্ঞ মস্তিষ্ক প্রয়োজন। যিনি ভারতীয় ফুটবলের হাল-হকিকৎ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পোষণ করেন।