সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: ২০০৩ আইএফএ শিল্ড ফাইনাল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্ট বেঙ্গলকে টাই-ব্রেকারে হারিয়ে শেষবার ঐতিহ্যশালী এই টুর্নামেন্ট জিতেছিল মোহন বাগান। তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ২২ বছর। এই পর্বে ছ’বার দল ফাইনালে পৌঁছলেও, খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে পালতোলা নৌকাকে। তবে চলতি মরশুমে সেই খরা কাটানোর সুযোগ রয়েছে হোসে মোলিনা-ব্রিগেডের সামনে। আগামী শনিবার শিল্ড ফাইনালে ফের একবার ইস্ট বেঙ্গলের মুখোমুখি হবেন ম্যাকলারেন-জেসন কামিংসরা। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে খুব সহজেই গোকুলাম কেরল ও ইউনাইটেড স্পোর্টসকে বশ মানিয়েছেন তাঁরা। তবে ফাইনালে লড়াইটা মর্যাদার। তার উপর, মরশুমের শুরুতেই ডুরান্ড কাপে ডার্বিতে হেরে মাঠ ছেড়েছিল হোসে মোলিনা-ব্রিগেড। তাই শনিবার লড়াইটা প্রতিশোধের। বাগান শিবিরে কান পাতলে সেই কথাই শোনা যাচ্ছে। ম্যানেজমেন্টের নির্দেশে অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন কোচ ও ফুটবলাররা। বরং এসিএল-টু থেকে দল নাম তুলে নেওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে যে ক্ষোভ সঞ্চার হয়েছে, ফাইনাল জিতে তাতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দিতে চান দিমিত্রিরা।
বুধবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলেছে মোহন বাগান। ফলে ফাইনালের আগে মাত্র দু’টি প্র্যাকটিস সেশন পাচ্ছেন মোলিনা। তাই কোনওরকম সময় নষ্ট না করে বৃহস্পতিবার দল নিয়ে প্রস্তুতিতে নেমে পড়েন স্প্যানিশ কোচ। এদিন যুবভারতী প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে সময়ের অনেক আগেই চলে আসেন ফুটবলাররা। দীর্ঘদিন ড্রেসিং-রুমে টিম মিটিং সারেন মোলিনা। এরপর দল নিয়ে শুরু হয় ডার্বির প্রস্তুতি। শুরুতে ফিজিক্যাল ট্রেনিংয়ের উপর জোর দেন মোলিনা। এরপর হাল্কা দৌড়েই মাঠ ছাড়েন ইউনাইটেড ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট খেলা ফুটবলাররা। তবে বাকিরা পুরোদমে গা ঘামান। জাতীয় শিবির থেকে বৃহস্পতিবার দলে যোগ দিয়েছেন লিস্টন, আপুইয়া, সাহালরা। ফলে ফাইনালের আগে পুরো স্কোয়াড হাতে পাচ্ছেন মোলিনা। তবে খেতাবি লড়াইয়ে প্রথম একাদশে কোন চার বিদেশিকে খেলাবেন বাগান কোচ, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে মরশুমে প্রথমবারের জন্য শুরু থেকে মাঠে নামেন দিমিত্রি। ম্যাচে গোলও পান অজি তারকা। তাছাড়া অতীতে ডার্বিতে তাঁর ট্র্যাক রেকর্ড বেশ ভালো। তাই শিল্ড ফাইনালে আজও একবার নিজেকে প্রমাণ করতে মরিয়া থাকবেন দিমি। তবে শুরু থেকে খেলাতে হলে রবসন কিংবা ম্যাকলারেনকে বেঞ্চে বসাতে হবে মোলিনাকে। কারণ রক্ষণে আলবার্তো ও আলড্রেডকে নিয়ে কোনও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটতে চাইবেন না বাগান কোচ। সেক্ষেত্রে শুক্রবার অনুশীলনেই দল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।
এদিকে, শুক্রবার সমস্ত ফ্যান ক্লাবগুলির সঙ্গে ক্লাবে বৈঠকে বসছেন সভাপতি দেবাশিস দত্ত। সেখানে তাদের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি ফাইনালে মাঠে গিয়ে দলকে সমর্থনের আর্জি জানাবেন তিনি।