অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: টাই-ব্রেকারে মেহতাব সিংয়ের শট জালে আছড়ে পড়তেই শুরু সেলিব্রেশন। দু’হাত তুলে মাঠে দৌড় দিলেন জেমি ম্যাকলারেন। বাকিরাও একই পথের যাত্রী। ডাগ-আউটে কোচ হোসে মোলিনা তখন শূন্যে তাকিয়ে উপরওয়ালাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এসিএল-টু’তে খেলতে না যাওয়ার সমালোচনা, সমর্থকদের বিক্ষোভ — একাধিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত আইএফএ শিল্ড ঘরে তুলল মোহন বাগান। মোলিনার সেলিব্রেশনে তাই স্বস্তির ছাপ সুস্পষ্ট। এরজন্য অবশ্য গোলরক্ষক বিশাল কাইথের প্রশংসা প্রাপ্য। জয় গুপ্তার শট রুখে দিয়ে তিনিই ছিনিয়ে আনলেন জয়। গঙ্গাপাড়ের ক্লাব তাঁবুতে দীর্ঘ ২৩ বছর পর এল শিল্ড। এর নেপথ্যে রয়েছেন আপুইয়াও। ম্যাচ শেষে তাই হাসিমুখে তিনি জানালেন, ‘গোল পেলে সব সময় ভালো লাগে। কিন্তু তা যদি দলের কাজে লাগে তাহলে আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যায়। গোলের শট নেওয়ার সময় লক্ষ্যে অভ্রান্ত থাকতে চেয়েছিলাম। আর সেটাই হয়েছে। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।’
ডুরান্ড কাপের ডার্বির পর এসিএল টু’এর প্রথম ম্যাচে ঘরের মাঠে পরাজয়। তার উপর ইরান না যাওয়ায় সমর্থকদের বিক্ষোভ। আইএফএ শিল্ডের গ্রুপ লিগের ম্যাচ পর্যন্ত বয়কট করেন তাঁরা। ঘরে-বাইরে সমালোচনায় বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল মোহন বাগানকে। কিন্তু শনিবার শিল্ড ফাইনালের জয়ে সেই গুমোট ভাব অনেকটাই কাটল। বড় ম্যাচ জিতে দীপাবলির আগে হাজার ওয়াটের আলো জ্বালালেন লিস্টন, সাহালরা। ম্যাচ শেষে তাই উৎসবের মেজাজ সবুজ-মেরুন শিবিরে। কোচ হোসে মোলিনা বললেন, ‘এই জয় দরকার ছিল। ফুটবলাররা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল। সুপার কাপের আগে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
গত দু’টি ম্যাচে কামিংস, রবসনদের খেলা দেখা থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল মোহন জনতা। কিন্তু এদিন যুবভারতীতে হাজির ছিলেন হাজার পনেরো সমর্থক। ম্যাচ শেষে তাই তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি দিমিত্রি পেত্রাতোস। তাঁর মন্তব্য, ‘ওরাই আমাদের অনুপ্রেরণা। সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে ভালো লাগছে।’ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বশ মানিয়ে শিল্ড জয়ের জন্য দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা।