হারারে: শুরুটা ঝলমলে না হলেও চেনা ছন্দে বৈভব সূর্যবংশী। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স মেলে ধরে বাঁ হাতি তরুণ ওপেনার ফের খবরের শিরোনামে। হাঁকিয়েছে দু’টি হাফ-সেঞ্চুরি। তিন ইনিংসে ঝুলিতে ১৫১ রান। স্বাভাবিকভাবেই প্রশংসা বন্যায় ভাসছে বৈভব। খোদ কোচ ভিভএস লক্ষ্মণ তাঁর পারফরম্যান্স দেখে অভিভূত। বলেছেন, ‘গত ছ’মাসে বৈভব দারুণ উন্নতির পাশাপাশি পরিণতবোধের পরিচয় দিয়েছে। তাই কঠিন পরিস্থিতিতেও দৃঢ় ইনিংস খেলতে ওর সমস্যা হচ্ছে না।’
আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আগেই সাড়া ফেলেছিল বৈভব। ভারতের যুব দলের হয়েও সাড়া জাগানো পারফরম্যান্স মেলে ধরেছিল বিহারের ছেলেটি। দাবি উঠেছিল, জাতীয় সিনিয়র দলে সুযোগ দেওয়ার। সেই দাবিকে মান্যতা দিয়েই বৈভবকে ইংল্যান্ড সফরে ভারতীয় স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু বিলেতের মাটিতে প্রথম পরীক্ষায় পাস মার্কস তুলতেই কালঘাম ছুটে যায় ভারতের এই বিস্ময় বালকের।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম তিনটি টি-২০ ম্যাচে তার রান ছিল যথাক্রমে ১৪, ১৩, ১৫। আইপিএলে সাড়া জাগানো বৈভবের দ্রুত আউট হওয়া নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছিলেন। নিন্দুকদের দাবি ছিল, বড়ই ওভাররেটেড ক্রিকেটার। আইপিএল আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে ফারাকটা এখনও হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছে। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টেরও আস্থা সাময়িক টলে গিয়েছিল। ফলে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ দু’টি টি-২০ ম্যাচে বৈভবকে খেলাননি কোচ গৌতম গম্ভীর। মনে করা হচ্ছিল, এবার হয়তো প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়া কঠিন হলো বৈভবের।
কিন্তু ভিভিএস লক্ষ্মণ জিম্বাবোয়ে সফরে ভারতের কোচ নিযুক্ত হন। তাতেই বদলে যায় বৈভবের ভাগ্য। লক্ষ্মণের আস্থার পূর্ণ মর্যাদা রাখতে চেষ্টার কসুর করেনি বাঁ হাতি ওপেনার। প্রথম ম্যাচে তার ব্যাট থেকে বেরিয়েছিল ঝলমলে ৫০। সহজে জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া। দ্বিতীয় ম্যাচে বৈভবের সংগ্রহ ছিল ২০। শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরির প্রত্যাশ জাগিয়ে ও আউট হয়েছিল ৮১ রানে। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে ভরাডুবির পর জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সাফল্য ভারতীয় দলকে অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে। কোচ লক্ষণ বলেছেন, ‘বৈভবের উপর আমাদের বিশ্বাস ছিল। কারণ, রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে চাপ সামলে ও অনেক ভালো ভালো ইনিংস উপহার দিয়েছে। ওর মধ্যে প্রচুর খিদে। সেটাই সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক। সেঞ্চুরিটা পেলে বেশি খুশি হতাম। তবে আমাদের মাথায় রাখতে হবে, ওর বয়স সবে ১৫। খুবই ছোটো। তাই ফোকাস যাতে নড়ে না যায়, সেদিকে সজাগ থাকা জরুরি।’