নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ওভাল টেস্ট জয় ভারতীয় ক্রিকেটে ওড়াচ্ছে তারুণ্যের পতাকা। নতুন অধিনায়ক শুভমান গিল যে পাঁচ ম্যাচের অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফি না হেরে দেশে ফিরবেন, এটা ভাবাই যাচ্ছিল না। ২-২ ফল সেজন্যই প্রশংসা কাড়ছে। তাৎপর্যের হল, টিম ইন্ডিয়া এই সিরিজে ইংল্যান্ডের থেকে বেশি সেশন জিতেছে। ভাগ্যের সহায়তা পেলে এই সিরিজ জিততেন গিলরাই। আর সেটাও বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো মহারথীদের টেস্ট থেকে অবসরের পর। যশপ্রীত বুমরাহও তিনটির বেশি টেস্ট খেলেননি। আর যে দু’টি টেস্ট তিনি খেলেননি, তাতেই জিতেছে ভারত। অর্থাৎ, মহাতারকাদের কেউই অপরিহার্য নন।
বরং বুমরাহর অনুপস্থিতিতে জ্বলে উঠেছেন মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, আকাশদীপ। চাপের মুখে প্রতিরোধ গড়েছেন ওয়াশিংটন সুন্দর। আর রোহিতের অভাব ওপেনিংয়ে টের পেতে দেননি লোকেশ রাহুল ও যশস্বী জয়সওয়ালের জুটি। চার নম্বরে কোহলির অনুপস্থিতিও অনুভূত হয়নি। সৌজন্যে গিলের ৭৫৪ রান। প্রশ্ন উঠছে তারুণ্যের এই দীপ্তিতে সিনিয়রদের অবস্থান কি নড়বড়ে হয়ে পড়ছে না? সুনীল গাভাসকর তো স্পষ্টই বলেছেন যে, একদিনের ক্রিকেটে ক্যাপ্টেন হিসেবে এবার গিলকে দেখা যেতেই পারে।
রোহিত-বিরাট অবশ্য টেস্ট ও টি-২০ ঘরানা থেকে আগেই সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা খেলেন শুধু একদিনের ক্রিকেট। তবে তাঁরা কি ২০২৭ সালের নভেম্বরে ওডিআই বিশ্বকাপে নামতে পারবেন? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। মার্চে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে নামেননি দু’জনে। এখন ঘরোয়া ক্রিকেটেও সাদা বলের কোনও প্রতিযোগিতা নেই। ফলে ম্যাচের মধ্যে থাকার জন্য খুব একটা সুযোগ পাচ্ছেন না দু’জনে। সৌরভ গাঙ্গুলিরও মন্তব্য, ‘ভারতীয় ক্রিকেটে কারোর জন্য থেমে থাকবে না। গাভাসকরের পর শচীন এসেছে। তারপর কোহলি। এখন যশস্বী-গিলরাও দারুণ খেলছে। আশা করব এই দু’জন ক্রিকেটার আরও বেশি সাদা বলে ক্রিকেট খেলুক।’
কোহলির বয়স ৩৬। রোহিতের ৩৮। দু’বছরেরও পর তাঁরা সর্বোচ্চ পর্যায়ের ধকল নিতে পারবেন কিনা, সেটাও দেখার। এই বছরে দুই মহারথী অবশ্য মোট ৬টি ওডিআই খেলবেন। তার মধ্যে তিনটি হবে অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানে কি রোহিতই নেতৃত্ব দেবেন? ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে। আগামী বছর নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলবে ভারত। জল্পনা চলছে, ওই সময়ই দুই সিনিয়রকে একদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে দেখা যাবে না তো?
এদিকে, ভারতীয় ক্রিকেটাররা মঙ্গলবার লন্ডন থেকে আলাদা আলাদা ভাবে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। দুবাই হয়ে আসবেন অর্শদীপ-শার্দূলরা। কেউ কেউ অবশ্য ইংল্যান্ডে ছুটি কাটাতে কিছুদিন থেকেও যাবেন। তবে কোচ গৌতম গম্ভীর মঙ্গলবারই দেশে ফিরলেন। দিল্লি বিমানবন্দরে তিনি বলেছেন, ‘ছেলেরা দারুণ খেলেছে। সিরাজ আসাধারণ। একইসঙ্গে দলের প্রত্যেকেই প্রশংসার প্রাপ্য। পাশাপাশি আমাদের উন্নতির পথে থাকতে হবে। তাহলেই দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বক্রিকেটে দাপট দেখানো সম্ভব। খেলোয়াড়রা আসবে-যাবে, কিন্তু ক্রিকেট সংস্কৃতি যেন এমনই থাকে।’ পরিষ্কার, বিরাট-রোহিতদের ছাড়াই এমন পারফরম্যান্সে উদ্দীপ্ত তিনি। সিনিয়রদের বেছে বেছে খেলা নিয়ে কড়া অবস্থানের পক্ষপাতী গম্ভীর। এক্ষেত্রে তিনি পাশে পাচ্ছেন নির্বাচকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অজিত আগরকরকে। সদ্যসমাপ্ত সিরিজে যশপ্রীত বুমরাহ তিনটি টেস্টের বেশি খেলতে না পারায় অসন্তোষ রয়েছে শিবিরে। আগামী দিনে ‘বুমবুম’কে সাদা বলের ক্রিকেটেই বেশি মন দিতে বলা হতে পারে।