Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

টাই-ব্রেকারের জন্য ছেলেদের প্রস্তুত রাখছেন কোচ ব্রুজোঁ

‘কাঁহা যানা হ্যায়?’ গোয়ার ডাবোলিম এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সিতে উঠতেই চালক সতীশ গাঁওকরের প্রশ্ন।

টাই-ব্রেকারের জন্য ছেলেদের প্রস্তুত রাখছেন কোচ ব্রুজোঁ
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:১২
Prefer us on Google

সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, মারগাও: ‘কাঁহা যানা হ্যায়?’ গোয়ার ডাবোলিম এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সিতে উঠতেই চালক সতীশ গাঁওকরের প্রশ্ন।  ফাতোরদার নেহরু স্টেডিয়াম শুনে চোখে জিজ্ঞাসা। ‘ওখানে কি কোনও খেলা আছে?’— কী অবস্থা! সুপার কাপ নাম কা ওয়াস্তে। চোখে পড়ে না কোনও ব্যানার, ফ্লেক্স। ফেস্টিভ সিজনে গোয়ার আলোচনায় ব্রাত্য ফুটবল। 

Advertisement

সতীশকে শুধু ট্যাক্সিচালক বললে ভুল হবে। গোয়ার দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লাব ফুটবলে রাইজিং স্টারের হয়ে খেলেছেন তিনি। র‌্যান্টি, ওডাফাদের স্মৃতিতে ডুব দেন। আহা সোনালি দিন। সালগাওকর, চার্চিল, ডেম্পো, ভাস্কোর ম্যাচে উপচে পড়ত গ্যালারি। ওডাফা, র‌্যান্টি, ওসুমানুদের ঘিরে চরম উন্মাদনা। সবই অতীত। সুপার কাপে এফসি গোয়ার ম্যাচেও গ্যালারি প্রায় ফাঁকা। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন নির্বিকার।  আসলে সুপার কাপকে বেচতেই পারেনি ফেডারেশন। নেহাত ইস্ট বেঙ্গল সেমি-ফাইনাল খেলছে। কলকাতা তো বটেই, মুম্বই থেকেও গোয়ায় হাজির কিছু অত্যুৎসাহী।
ডিসেম্বরের গোয়া এখন উত্সবমুখী। পর্যটকদের ঢল, প্রি-পেইড ট্যাক্সি কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন। সমুদ্রতটে ছোট্ট রেস্তোরাঁয় স্প্যানিশ গিটারের মূর্চ্ছনা। বিদেশির ভিড়ে চিকেন ভিন্দালু আর পানীয়ের গ্লাসে ঠুংঠাং। ঐতিহাসিক গির্জায় ফেয়ারি লাইট। সামনে বড়দিন। ঝাড়পোছের কাজ চলছে পুরোদমে। তবে অস্কার ব্রুজোঁর সেদিকে তাকানোর সময় নেই। রাত পোহালেই সুপার কাপের সেমি-ফাইনাল। মিগুয়েলদের স্প্যানিশ কোচ তাই সতর্ক। ডুরান্ড কাপের পর শিল্ডেও হারতে হয়েছে। এবার ট্রফি চাই যে কোনও মূল্যে। 
বুধবার ওয়ার্ল্ড ডিসেবিলিটি ডে! তাই এদিন স্পেশাল ওলিম্পিকস ফুটবল টিম ইস্ট বেঙ্গলের অনুশীলনে এসেছিল। বিশেষভাবে সক্ষম ফুটবলারদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান হামিদরা। লাল-হলুদ জার্সিও তুলে দেওয়া হয় তাঁদের হাতে। হাল্কা মেজাজেই প্র্যাকটিস সারলেন হিরোশিরা। চলল পেনাল্টি শ্যুট-আউটের মহড়াও। সেমি-ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে ফয়সালা না হলে টাই-ব্রেকারের জন্য তৈরি থাকছে লাল-হলুদ-ব্রিগেড। আসলে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এগোচ্ছেন ব্রুজোঁ। শিল্ড ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহন বাগানের কাছে যে হারতে হয় এই পর্বেই। ডন বস্কো মাঠে তিন দিকে গোলপোস্ট রেখে মহড়া সারলেন হামিদ, আনোয়াররা। ভুললে চলবে না, বেঙ্গালুরু এফসি’কে টাই-ব্রেকারে হারিয়ে শেষ চারে উঠে এসেছে পাঞ্জাব। এদিকে, সেমি-ফাইনাল খেলতে পাঞ্জাব এফসি’ও মঙ্গলবার গোয়াতে পা রাখল। নামধারীর বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে তারা। এদিন ফুটবলাররা হোটেলেই বিশ্রামে কাটালেন। বুধবার দুপুরে মেগা ম্যাচের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সারবেন প্যানাজিওটিসের ছেলেরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ