চাকরিহারা টেন্টেড শিক্ষকদের গ্রুপ সি চাকরি  দিতে আইনি পরামর্শ গ্রহণের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, বৃহস্পতিবারও ‘দাগী’দের আবেদন খারিজ হাইকোর্টে
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিভিন্ন মহলের সমালোচনা অগ্রাহ্য করেই ‘টেন্টেড’ শিক্ষকদের প্রতি সহমর্মিতা আগেও প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার শিক্ষক দিবসের সরকারি অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই তাঁদের গ্রুপ সি পদে চাকরি দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়ার কথা জানালেন তিনি। বৃহস্পতিবার আলিপুর ধনধান্য স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী ‘নন-টেন্টেড’ শিক্ষকদের পাশাপাশি টেন্টেড শিক্ষক এবং চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীদের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন। 

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের চাকরি যাওয়া নিয়ে আমি মানসিকভাবে খুবই ব্যথিত। হতাশ হতে বারণ করব। ১০ বছর চাকরি করে হঠাৎ চাকরিহারা হয়ে পড়া বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।’ মানবিকভাবে সরকার যে তাঁদের পাশে থাকবে, তা ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকরা যে পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের ছাড় পাচ্ছেন, অভিজ্ঞতার জন্য বাড়তি নম্বর পাচ্ছেন, তা ফের তিনি একবার মনে করিয়ে দেন। শিক্ষাকর্মীরাও যাতে বয়সের ছাড় পান, সেটা দেখার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং শিক্ষাসচিব বিনোদ কুমারকে দেখার কথা তিনি বলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা এই সুযোগ পেলে শিক্ষাকর্মীদেরও পাওয়া উচিত।
আদালত টেন্টেড শিক্ষকদের শিক্ষকতার চাকরিতে ফেরানোর পথ বন্ধ করে দিয়েছে। সেই কারণেই তাঁদের শিক্ষাকর্মী পদে ফেরানোর চেষ্টা করছে সরকার। যদিও সমালোচকরা বলছেন, আদালত এই পদক্ষেপ মেনে নেবে না। মামলা হলে ফের সেটা আটকে যাবে। এদিনের অনুষ্ঠানে চাকরি নিয়ে মামলাকারীদের উদ্দেশেও তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উচ্চ প্রাথমিকের ১৪ হাজার নিয়োগ কীভাবে দীর্ঘসূত্রতায় আটকে ছিল, কীভাবেই-বা অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়োগ আটকে থাকছে, এসব ইস্যুই তথ্য দিয়ে তিনি তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে শিক্ষক শূন্যপদ রয়েছে মোট ৫৬ হাজার। তার মধ্যে ৩৫,৭২৬ পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছে। আরও ২১ হাজার শূন্যপদ রয়েছে সরকারের হাতে। আইনি বাগড়া না দিলে সেগুলিতেও যে দ্রুত নিয়োগ হবে, তা বুঝিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে, হাইকোর্টে বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ টেন্টেড শিক্ষকদের পরীক্ষায় বসার আর্জি খারিজ করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ই বহাল রেখেছে ডিভিশন বেঞ্চ। যদিও, এদিন মামলাকারীদের আইনজীবী অনিন্দ্য লাহিড়ী, সুবীর সান্যাল, সৌম্য মজুমদাররা আগের একাধিক রায়ের কপির উল্লেখসহ আদালতকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে, সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে কোনওভাবে ঢুকতে চায়নি হাইকোর্ট। ৩৫০ শিক্ষক আবেদন করেছিলেন। বরং, এঁরা কীভাবে অ্যাডমিট কার্ড পেলেন, সেই প্রশ্ন তুলে এসএসসি’কে তুলোধোনাই করেছে হাইকোর্ট। -নিজস্ব চিত্র