নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: আগামী কাল সোমবার দু’দিনের জেলা সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই মেদিনীপুরজুড়ে সাজসাজ রব। মুখ্যমন্ত্রী মেদিনীপুরের সরকারি অনুষ্ঠান থেকে কেশপুরের মানুষের জন্য ৫০ বেডের হাসপাতাল বিল্ডিং ও আনন্দপুর এলাকায় ১০ বেডের হাসপাতাল বিল্ডিংয়ের শিলান্যাস করবেন। অপরদিকে তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধনও করবেন। জানা গিয়েছে, কেশপুর ব্লকের কেশপুর ও আনন্দপুর থানা এলাকায় গ্রামীণ হাসপাতালের বিল্ডিং তৈরি হলে উপকৃত হবেন কয়েকশো গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। কেশপুর এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, কেশপুর হাসপাতালের বেড সংখ্যা বেড়ে গেলে মেদিনীপুর যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। শেষ দশ বছরে কেশপুর এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিপুল পরিবর্তন হয়েছে। জানা গিয়েছে, গড়বেতা-৩ ব্লক, মোহনপুর ও কেশিয়াড়ি ব্লক পাবলিক হেল্থ ইউনিটের সংস্কার করা হবে। এই কাজের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, শনিবার ছুটির দিনেও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা বৈঠক করেছেন। রবিবারও ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সিএমওএইচ সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, জেলায় দু’দিনের সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন প্রকল্পের তিনি উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে মানুষ উপকৃত হবেন।
প্রসঙ্গত, বাম আমলে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ সহ বিভিন্ন হাসপাতাল তৈরি হয়েছিল ঠিকই। তবে সেই সময় হাসপাতালগুলোর পরিকাঠামো ভালো মানের ছিল না। একইসঙ্গে উন্নতমানের চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাব থাকায় সমস্যায় পড়তে হতো সাধারণ মানুষকে। কিন্তু ২০১১ সালের পর থেকে অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করে। বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলো থেকে পরিষেবার পরিমাণও বেড়েছে।
জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর জেলায় বৈঠকে এসে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উন্নয়নে বিশেষ জোর দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইমতো হাসপাতালকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বেডের সংখ্যা ছিল খুবই কম। তবে বর্তমানে দ্বিগুণ হারে বেডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আগে রোগীদের সিসিইউ, আইসিইউ পরিষেবা দিতে কলকাতায় বা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে হতো। বর্তমানে হাসপাতালেই সিসিইউ বা আইসিইউ ইউনিট তৈরি হয়েছে। এছাড়া মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গড়ে ওঠা কার্ডিয়াক বিভাগ নতুন দিশা দেখাচ্ছে। হার্টের রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন। অপরদিকে হাসপাতাল চত্বরে মাতৃ মা ইউনিট গড়ে তোলা হয়েছে। তার সুবিধা পাচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ।
স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ১৮টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো তৈরি হলে এক হাজারের বেশি গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন। প্রতিটি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা থাকবে। তিনটি ব্লকের পাবলিক হেল্থ ইউনিটের সংস্কার করা হয়েছে। সেগুলির উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেশপুর এলাকার বাসিন্দা চন্দন দাস বলেন, আগের তুলনায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের উপকার পেয়েছি।