নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাজেটের আগে দু’সপ্তাহ বিধায়কদের নিজ নিজ এলাকায় চরকির মতো ঘোরার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের প্রশাসনিক বৈঠকে বিধায়কদের মুখ্যমন্ত্রী ওই নির্দেশ দেন। এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে শুরু করে অন্যান্য ক্ষেত্রে কী কী সমস্যা রয়েছে, তা লিপিবদ্ধ করে সরকারকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনে বেহাল ভবনের ছবি, ভিডিও তুলে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোর জন্যও বলা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে কাজ করা যাবে, এমন প্রস্তাব বাজেটে পাশ করানোর লক্ষ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ওই বার্তা দিয়েছেন বলে প্রশাসনের আধিকারিকরা মনে করছেন।
এদিন দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে বিধায়ক থাকার সুবাদে এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার স্বচ্ছ ধারণা রয়েছে। এবারও ভোটে জেতার পর থেকে উন্নয়ন নিয়ে অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ভোট প্রচারে প্রতিটি গ্রামে গিয়েছি। তখন বাসিন্দারা তাঁদের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। সেইসব সমস্যা সম্পর্কে আগেই অবগত রয়েছি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো আগামী দু’সপ্তাহ আবার প্রতিটি এলাকায় ঘুরব। জুন মাসের শুরুতেই নতুন রাজ্য সরকারের বাজেট রয়েছে। তার আগে আমরা প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দেব।
জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সামগ্রিকভাবে আলোচনা করেন। কোনো নির্দিষ্ট জেলার ব্যাপারে বিশদে আলোচনা হয়নি। সামনেই বর্ষার মরশুম রয়েছে। বন্যা হয় এমন এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের এব্যাপারে আগাম পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক রং না দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানার ওসি, আইসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন বালির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারেও মুখ্যমন্ত্রী ভূমি দপ্তর ও প্রশাসনের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন। সাধারণ মানুষকে যাতে চড়া দামে বালি কিনতে না হয়, তা দেখার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেন। বৈধ খাদান নির্বিঘ্নে চালুর পাশাপাশি বেআইনি খাদানের ব্যাপারেও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। তবে বাজেটের আগে এলাকার ছোটোখাটো সমস্যা নিয়ে বিধায়কদের তৎপর হতে নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে। বেহাল সরকারি ভবন, পরিকাঠামো মেরামতে বাজেটে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ হতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।