নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জিএসটি নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপের মুখে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী তথা বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রকের প্রধান মুখ্য উপদেষ্টা অমিত মিত্র। বৃহস্পতিবারের শিল্প সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে জিএসটি প্রসঙ্গ আনেন। তিনি বলেন, ‘এখন রাজ্যের কোনও নিজস্ব কর নেই। সবটাই জিএসটি। আগে আমরা ভেবেছিলাম, রাজ্যের জন্য জিএসটি ভালো। অমিতদা আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন জিএসটি ব্যবস্থাকে সমর্থন করার জন্য।’ এরপরই অমিত মিত্রকে সরাসরি প্রশ্ন করেন মুখ্যমন্ত্রী, ‘এখন আপনি ব্যাখ্যা দিন, কেন কেন্দ্র আমাদের থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা কেটে নিচ্ছে?’
দুর্গাপুজোর আগে বিভিন্ন পণ্যে জিএসটির হার কমিয়ে সাধারণ মানুষকে খুশি করতে চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। জিএসটি কমানোর বিষয়টিতে নিজেদের কৃতিত্ব দিতে বড় বড় বিজ্ঞাপনও করেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। তাকে কটাক্ষ করে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিমার উপর থেকে জিএসটি তুলে দেওয়া হয়েছে, বিজ্ঞাপন করে বলছে কেন্দ্র। অথচ আমাদের ভাঁড়ার থেকে চলে যাচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা!’ এরপর ফের অমিত মিত্রের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এই নিয়ে আপনার জবাব কী?’ বক্তব্য থামিয়ে অমিতবাবুর দিকে তাকিয়ে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। তখন প্রত্যুত্তরে অমিত মিত্র বলেন, ‘সংসদে কেন্দ্র জানিয়েছে, জিএসটি বাবদ দু’লক্ষ কোটি টাকার প্রতারণা হয়েছে!’ এবার অমিতবাবুকে থামিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি বলছেন দু’লক্ষ কোটি টাকা। আসলে অনেক লক্ষ কোটির প্রতারণা হয়েছে। আমরা জানতাম স্পষ্টতা, গ্রহণযোগ্যতা বা স্থিতিশীলতার কারণে জিএসটি ভালো। এখন আপনিই বলুন, জিএসটিতে আমরা লাভবান হলাম, নাকি সেটা যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়াল?’
জিএসটি নিয়ে এর আগেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জিএসটির নয়া হার ঘোষণা হওয়ার পর তিনি জানিয়েছিলেন, এতে বাংলার ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হবে। কীভাবে সেই ক্ষতিপূরণ মিলবে, তার হদিশ দেয়নি কেন্দ্র। এমনকি রাজ্যগুলির রাজস্ব ক্ষতির সমাধানসূত্র পেতে জিএসটি কাউন্সিলের আওতায় কোনও মন্ত্রিগোষ্ঠী তৈরি করার ব্যাপারে এখন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও সংসদে জানিয়ে দিয়েছে অর্থমন্ত্রক। রাজস্ব ক্ষতি নিয়ে তাই এদিনও ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, জিএসটি ব্যবস্থা চালুর আগে, রাজ্যগুলির অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত নীতিনির্ধারক কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।