সংবাদদাতা, রামপুরহাট: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। অবশেষে তারাপীঠে সতীর ৫১পীঠের আদলে মন্দির গড়ে তোলার কাজ শুরু হতে চলেছে। আগামী মঙ্গলবার ইলামবাজারের পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর শিলান্যাস করতে পারেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তারাপীঠে সতীর ৫১টি পীঠস্থানের আদলে মন্দির ও বিগ্রহ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় টিআরডিএ। আনুমানিক ১০০কোটি টাকা খরচ হবে বলে ধরা হয়েছিল। সেইমতো চিলাব্রিজ সংলগ্ন বনদপ্তরের ৩৬.৫১ একর জায়গা চিহ্নিত করা হয়। ২০২০ সালের এপ্রিলে জায়গাটি জেলা কালেক্টরকে হস্তান্তর করে বনদপ্তর। ইতিমধ্যে ওই এলাকায় ৪.৯৭ একর জায়গা নিয়ে পিএইচই সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট গড়ে তুলেছে। ফলে ৫১ সতীপীঠের জায়গা কমে যায়। চলতি বছরের শুরুতে জায়গাটি দ্রুত তাদের হস্তান্তর করার আবেদন জানিয়ে জেলাশাসককে চিঠি দিয়েছে টিআরডিএ। গত মার্চ মাসে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের তরফে লিজের প্রস্তাব আসে। যা নিয়ে টিআরডিএর অন্দরে হইচই পড়ে যায়। কারণ, চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ৩১.৫৪ একর জায়গা তারা টিআরডিএকে দীর্ঘমেয়াদি লিজ দিতে পারে। কিন্তু, তার মধ্যে থাকা ১.৫৪ একর জমি রামপুরহাট কোর্ট বিল্ডিং নির্মাণের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। টিআরডির পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু ৫১টি মন্দির গড়লেই হবে না। হুবহু পরিবেশ করতে গেলে পর্যাপ্ত জায়গার প্রয়োজন। আদালত হলে প্রকল্পের জায়গা যেমন কমে আসবে, তেমনই প্রকল্পের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই হবে না। বিষয়টি জেলাশাসককে জানান টিআরডিএর চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সেই সময় জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, কোর্টের বিল্ডিংয়ের জন্য রামপুরহাটের মনসুবা মোড় সংলগ্ন বিকল্প জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। আপাতত ৩০একর জায়গার উপর সতীর ৫১পীঠের আদলে মন্দির গড়ে তোলার বিষয়ে সায় দেয় টিআরডিএ। আর কোনও সরকারি দপ্তরকে এই জায়গা না দিতে বলা হয়। সম্প্রতি পুরো জায়গা ঘিরে মাটি ভরাট ও লেভেলিংয়ের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেয় টিআরডিএ। জেলা প্রশাসনের কাছে তারা আবেদন জানায়। অবশেষে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে মন্দির গড়ে তোলার কাজের শিলান্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। টিআরডিএর সিইও তথা রামপুরহাট মহকুমা শাসক সৌরভ পান্ডে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে শিলান্যাসের প্রস্তাব টিআরডিএ থেকে পাঠানো হয়েছে। এব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
উল্লেখ্য, দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের পর তীর্থভূমি তারাপীঠে এই প্রকল্প গড়ে উঠলে মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। সতীর ৫১ পীঠের পাঁচটি পীঠ রয়েছে বীরভূম জেলায়। বাকি পীঠগুলি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রামে রয়েছে মা ভবানী, কাশ্মীরে মা মহামায়া, নেপালের গুহ্যেশ্বরী মন্দির। শ্রীলঙ্কা, কৈলাস পর্বতের পাদদেশে মানস সরোবর সহ ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সতীর দেহখণ্ড ছডিয়ে পড়েছিল। এক ছাতার তলায় বিবরণ সহ সতীর সমস্ত পীঠের আদলে মন্দির ও বিগ্রহ নির্মাণ হলে তারাপীঠে পর্যটন ক্ষেত্রে ব্যাপক বিকাশ ঘটবে।
তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, তারাপীঠে ৫১ পীঠ হলে জেলার অর্থনীতির মানচিত্র বদলে যাবে। প্রচুর কর্মসংস্থান হবে। সেইসঙ্গে বামাখ্যাপার সাধানাস্থল আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে। সেবাইতদের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।