সংবাদদাতা, বোলপুর: রবিবার বোলপুরে তৃণমূলের জেলা কোর কমিটির বৈঠক চলাকালীন অনুব্রত মণ্ডলকে ফোন করলেন দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে। জেলা সভাপতি হিসেবে কয়েকদিন আগেই তিন মহকুমায় মহামিছিলের ডাক দিয়েছিলেন অনুব্রত। এদিন বৈঠকে তাঁর সিদ্ধান্তেই অনুমোদন দিয়েছে কোর কমিটি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় জেলার শীর্ষনেতাদের অনুগামীদের মধ্যে কাজিয়া ভালোভাবে নেয়নি জেলা নেতৃত্ব। আগামী দিনে এমনটা চললে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান চেয়ারপার্সন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, অনুব্রতবাবু জেলে থাকাকালীন সংগঠনের দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়েছিলেন দলনেত্রী। কোর কমিটি গড়ে দেন তিনিই। অনুব্রত জেলায় ফেরার পরও জেলা সভাপতি তিনিই ছিলেন। প্রায় দু’মাস ধরে কোর কমিটির বৈঠক না হওয়ায় তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কাজল শেখ। সদ্য বিভিন্ন জেলার সভাপতি পরিবর্তনের সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়, বীরভূমে কোর কমিটিই জেলা চালাবে। জেলা চেয়ারপার্সন হিসেবে পুনরায় বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারপরই কোর কমিটির বৈঠক ডাকেন আশিসবাবু।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা ও বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় ছাড়া কোর কমিটির সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক চলাকালীন অনুব্রতকে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক কে আহ্বান করেছে জানতে চাইলে অনুব্রতবাবু আশিসবাবুর নাম নেন। বৈঠক শেষে আশিসবাবু বলেন, আগামী ২৫, ২৬ ও ২৭মে মহামিছিলের যে ঘোষিত কর্মসূচি ছিল, কোর কমিটি সেই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার দলীয় নেতা কর্মীদের নানান পোস্ট ঘিরে সৃষ্টি হচ্ছে বিভাজন। সেই প্রসঙ্গে আশিসবাবু বলেন, বিষয়টিকে কড়াভাবে দমন করা হবে। আগামী দিনে কেউ বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাঁকে চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তীতে জেলার যে কোনও বিষয়ে কোর কমিটিই ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নেবে। এবার মাসে দু’বার করে কোর কমিটির বৈঠক হবে।
এদিন অনুব্রত বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। আমাকে উনি বলেছিলেন, কোর কমিটির বৈঠক ডাকো। আমি বলেছি, আমি ডাকব না, ওটা আশিসদা ডাকবেন। হাসনে যাঁরা তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়েছেন তাঁরা আবার ফিরে আসবেন। জেলা সভাপতি পদ চলে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পদ না পেলে অম্বল হবে, এমন মানুষ আমি নই। আমাকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যসভার সদস্য করতে চেয়েছিলেন। তখনও হতে পারতাম। এমনকী, বিধায়ক, সাংসদ মন্ত্রী ও হতে পারতাম। এসব নিয়ে চিন্তাভাবনা করি না। মানুষের পাশে থাকাই আমার কাজ। জেল যখন খেটেছি কোনওদিন অন্য দলে যাব না।’
বৈঠক শেষে কাজল শেখ বলেন, চেয়ারপার্সনের নেতৃত্বে কোর কমিটির বৈঠক হয়েছে। আগামী দিনে কোর কমিটির দ্বারাই জেলা পরিচালিত হবে। বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেই কর্মসূচি পালন করা হবে। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে চলব। আমাদের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব ও বিভেদ নেই। সবই মিডিয়ার তৈরি।