Bartaman Logo
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কোথাও গুচ্ছ ফ্ল্যাট ফাঁকা, কেউ তথ্য দিতে নারাজ! কলকাতা পুর এলাকায় জনগণনায় বেরিয়ে অভিজ্ঞতা কর্মীদের

দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের একটি আবাসনে জনগণনার কাজে গিয়েছিলেন কর্মীরা। সেখানকার বিভিন্ন ফ্ল্যাটে গিয়ে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন তাঁরা! ওই আবাসনের ১৬০০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২০০টি ফ্ল্যাটে কেউ থাকেনই না।

কোথাও গুচ্ছ ফ্ল্যাট ফাঁকা, কেউ তথ্য দিতে নারাজ! কলকাতা পুর এলাকায় জনগণনায় বেরিয়ে অভিজ্ঞতা কর্মীদের
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের একটি আবাসনে জনগণনার কাজে গিয়েছিলেন কর্মীরা। সেখানকার বিভিন্ন ফ্ল্যাটে গিয়ে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন তাঁরা! ওই আবাসনের ১৬০০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২০০টি ফ্ল্যাটে কেউ থাকেনই না। যদিও প্র্যতেকটি ব্যক্তিমালিকানার ফ্ল্যাট। ই এম বাইপাসের ধারে রুবি সংলগ্ন এলাকায় একটি অভিজাত আবাসনেও একই চিত্র। ফ্ল্যাটের মালিক আছেন। কিন্তু ফ্ল্যাটে কেউ থাকেন না। ফাঁকা পড়ে রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে জনগণনার কাজ করা যায়নি।

Advertisement

জনগণনার কাজে বেরিয়ে ‘বাধা’ পাওয়ার অভিজ্ঞতাও হচ্ছে গণনাকর্মীদের। শহরের বেশ কিছু জনপদে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। গণনাকর্মীদের দাবি, ক’টি ঘর বা ঘরে কতজন থাকেন, এই ধরনের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকের সমস্যা না হলেও কী খান, কোথায় শৌচকর্ম করেন— এই ধরনের ‘হাঁড়ির খবর’ দিতে বহু নাগরিকই আপত্তি করছেন। রাজাবাজার, মোমিনপুর, একবালপুর, গার্ডেনরিচ প্রভৃতি এলাকায় কেউ কেউ জনগণনায় অপরিচিতকে তথ্য দিতে নিমরাজি ছিলেন। পরে অবশ্য স্থানীয় পুরকর্মীদের সহায়তায় সেই সমস্যা মেটে। 
কলকাতায় জনগণনা করতে গিয়ে এমন নানা অভিজ্ঞতায় প্রথমদিকে কাজের গতি শ্লথ হলেও পরে তা গতি পায়। সূত্রের খবর, কলকাতায় সাড়ে আট হাজারের বেশি ইনিউমারেশন ব্লক রয়েছে। জনগণনার কাজে যুক্ত আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, রাখিপূর্ণিমার দিন পর্যন্ত প্রায় ২৫০০ ব্লকে কাজে হাত দেওয়া যায়নি। পর্যাপ্ত সংখ্যক গণনাকর্মী না থাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনার কাজ করা যায়নি এই ব্লকগুলিতে। বর্তমানে এমন ‘আনটাচড’ ব্লকের সংখ্যা ৫০টিরও কম। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়ে ফেলা যাবে বলেই মনে করছেন তাঁরা। জানা যাচ্ছে, ২০১১ সালের গণনা অনুসারে কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৫ লক্ষ। ইতিমধ্যে ৩০ লক্ষের বেশি জনগণের গণনা হয়ে গিয়েছে।
আধিকারিকদের আশঙ্কা অবশ্য অন্য! তাঁদের মতে, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দেখা গিয়েছে, বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা আছে। কিন্তু সেখানে কেউ থাকে না। কোথাও আবার বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের সন্তান কর্মসূত্রে বাইরে। এক্ষেত্রে অবশ্য সন্তানকেও গণনায় ধরতে হচ্ছে। কিংবা সন্তান যদি পাকাপাকিভাবে বাইরে থাকেন, সেই তথ্য জেনে নিয়ে গণনায় তাঁকে বাদ দিতে হচ্ছে। এক আধিকারিক বলেন, ‘এমন ছবি শহরের বহু অঞ্চলে। বহু মানুষ বা পরিবার আগে হয়তো কলকাতা পুর এলাকায় থাকতেন। বর্তমানে জমি-বাড়ি বেচে পার্শ্ববর্তী কোনো জেলায় চলে গিয়েছেন—গণনার কাজে তেমনটাও দেখেছি আমরা।’ সেক্ষেত্রে কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ২০১১ সালের ৪৫ লক্ষের তুলনায় কতটা বাড়বে, কিংবা আদৌ জনসংখ্যা বৃদ্ধির ছবি এই গণনায় ধরা পড়বে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান কর্তারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ