নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফেডারেশন কর্তাদের দৌলতে ভারতীয় ফুটবলে ঘোর অমাবস্যা। শীর্ষ লিগে বল গড়াবে তো? অনিশ্চয়তা কাটাতে অনেক আগেই উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। এখন জল বইছে বিপদসীমার উপরে। খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো অবস্থা কল্যাণ চৌবেদের। এই মুহূর্তে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকা ছাড়া কোনও উপায় নেই। অবসরপ্রাপ্ত প্রাক্তন বিচারপতি নাগেশ্বর রাও মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। তা খতিয়ে দেখেই রায় জানাবে সুপ্রিম কোর্ট। সিদ্ধান্ত কবে মিলবে? দুরুদুরু বুকে সেদিকেই তাকিয়ে ফুটবল মহল।
আইএসএলের বিভিন্ন ক্লাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিনিধিদের নিয়ে মঙ্গলবার বৈঠকে বসে ফেডারেশন। তাৎপর্যের বিষয়, ওড়িশা এফসি’র তরফে কেউই ছিলেন না। সুপার কাপেও দল নামায়নি তারা। জোর গুঞ্জন, লোকসানের বহর সামলাতে তাদের জিভ বেরিয়ে পড়ার জোগাড়। দল তুলে নেওয়াও অস্বাভাবিক নয়। মোহন বাগান ও ইস্ট বেঙ্গল প্রতিনিধি অনলাইনে বক্তব্য রাখেন। অবিলম্বে ফুটবল চালুর উপর জোর দেয় বিভিন্ন ক্লাব। ইতিমধ্যেই মোটা টাকা ইনভেস্ট করে বসে রয়েছে একাধিক দল। মাঝপথে জাহাজ ডোবার জোগাড়। সূত্রের খবর, নামী আইনজীবীরও দ্বারস্থ হয়েছে ক্লাব জোট। সর্বোচ্চ আদালতে অসহায় পরিস্থিতি তুলে ধরা হবে। ইতিমধ্যেই পিটিশনে সই করেছেন ১২ জন ফুটবলার। ফুটবলই তাঁদের রুটি-রুজি। বল না গড়ালে তাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে। তাঁরাও আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন। ফেডারেশন সভাপতি বরাবরের মতো প্রতিশ্রুতির রাস্তায় হেঁটেছেন। আদালতের রায় পেলেই ফের ক্লাবজোটের সঙ্গে বৈঠকে বসবে ফেডারেশন। আসলে ক্রমশ চাপ বাড়ছে ফুটবল মহলে। অল্প সময়ে টপ টিয়ার লিগ কীভাবে আয়োজন হবে? বুক ঠুকে বলার জায়গায় কেউই নেই। কমার্শিয়াল পার্টনার বেছে নিতে দরপত্র আহ্বান করেছিল ফেডারেশন। কিন্তু অবাস্তব শর্ত মেনে আগ্রহ দেখায়নি কেউই। শোনা যাচ্ছে, গর্ভনিং কাউন্সিল মারফত শীর্ষ লিগ আয়োজনের প্রস্তাব মানতে রাজি নয় কর্পোরেট সংস্থা। পাশাপাশি, নয়া সংবিধানে অবিলম্বে অবনমন চালু করতে বলা হয়েছে। তাতে আবার বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির আপত্তি।