নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: প্রায় ৮৬ বছর ধরে কালীপুজো করছে তারা। দুর্গাপুজোর বয়স তিন বছর। সেই পুজো কমিটির ক্লাব ও স্থায়ী মঞ্চ দখলের অভিযোগ উঠল। কেউ বা কারা সেখানে অন্য একটি ক্লাবের ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়েছে সাতগাছিয়া বিধানসভার নান্দাভাঙা এলাকায়। পুজো, ক্লাব, মঞ্চ পুনরুদ্ধার করতে থানা থেকে জেলা প্রশাসন, এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পর্যন্ত অভিযোগ জানিয়েছেন ক্লাব সংগঠন ‘নান্দাভাঙা উত্তরণ’-এর কর্তারা। কাদের মদতে এই দখলদারি? এর পিছনে কি কোনো রাজনৈতিক যোগ রয়েছে? এই প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, এই ক্লাবের কালীপুজো বিখ্যাত। ২০২৩ সাল থেকে তারা দুর্গাপুজো শুরু করে। পুজোর জন্য কংক্রিটের একটি স্থায়ী মঞ্চও তৈরি করেছিল তারা। ওই মঞ্চকে ঘিরেই তৈরি হত মণ্ডপ। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হঠাৎ একদিন রাতের অন্ধকারে একদল লোক এসে ক্লাবঘর ঢুকে ভাঙচুর করে। তারপর মঞ্চে লাগিয়ে দেওয়া হয় অন্য নামের একটি ব্যানার। এই ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কিত ক্লাব সদস্যরা। বাধা সৃষ্টি হওয়ায় তাঁরা এখনও পুজোর প্রস্তুতি শুরু করতে পারেননি। স্বাভাবিকভাবেই সমস্যায় পড়েছেন তারা। ১৬ সেপ্টেম্বর বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত এবং ১৮ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে ই-মেইল করে অভিযোগ জানানো হয়েছে। ক্লাবের সম্পাদক সুরজিৎ নস্কর বলেন, নান্দাভাঙা সাইকেল দোকান মোড়ের এই পুজোয় কোনো দিন এমন ঘটনা ঘটেনি। কারা অন্য সংগঠনের ব্যানার টাঙিয়ে দিয়ে গিয়েছে, তা জানি না। তাই প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। আশা করছি, দ্রুত এর সমাধান হবে এবং আমরা পুজোর প্রস্তুতি শুরু করতে পারব। এই ঘটনায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ কোনো রাজনৈতিক টানাপোড়েন চাইছে না বলে জানা গিয়েছে। বরং প্রশাসনের উপর আস্থা রেখে স্থায়ী সমাধানের দিকে তাঁরা তাকিয়ে। এ ব্যাপারে সাতগাছিয়া বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক অগ্নিশ্বর নস্করকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। মেসেজের উত্তরও দেননি। নিজস্ব চিত্র