নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হ্যাপি নিউ ইয়ার। নতুন বছরে প্রথম সাক্ষাৎ বা ফোনালাপে শুভ বার্তা জানানোই দস্তুর। কিন্তু ২০২৬ সাল কী ভারতীয় ফুটবলে আশার আলো দেখাবে? উত্তর এখনও অজানা। বরং ফেডারেশন বনাম ক্লাবজোটের দড়ি টানাটানি চলছেই। বুধবার ক্লাবজোটকে ই-মেল করে পার্টিশিপেসন লেটার পাঠিয়েছিল ফেডারেশন। এমনকী, ২৪ ঘণ্টা সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। এদিন পাল্টা ই-মেল পাঠিয়ে দিল ক্লাব জোট। বয়ানে পরিষ্কার, তাদের দাবি না মানলে মাঠে বল গড়ানো অনিশ্চিত। উল্লেখ্য, ১৪ টি ক্লাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজির জোটে মোহন বাগান, ইস্ট বেঙ্গল ও মহমেডান স্পোর্টিংয়ের সই রয়েছে।
ক্লাবজোটের দাবিগুলো ঠিক কী? স্পষ্টভাবে হয়েছে, চলতি মরশুমে কোনও পার্টিসিপেশন ফি নেওয়া চলবে না। পাশাপাশি ম্যাচ আয়োজন ছাড়া অন্যান্য কোনও খরচ বহন করতে নারাজ ক্লাবজোট। এখানেই শেষ নয়। কমার্শিয়াল পার্টনার, টেলিকাস্ট পার্টনার দ্রুত নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া স্টেডিয়াম বুকিং, প্র্যাকটিস মাঠ ভাড়ার মতো আনুষাঙ্গিক খরচ কমাতে কেন্দ্রীয় সরকারকে উদ্যোগ নিতে অনুরোধও করেছে জোট। ই-মেলের বয়ান দেখে অনেকেই ধারণা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় শিলমোহর পড়লে ক্লাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিনিধিরা কিছুটা নরম হতে পারেন। জোটের চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর ফেডারেশন কী ভাবছে? সূত্রের খবর, কমার্শিয়াল পার্টনার পেতে দ্রুত দরপত্র বাজারে ছাড়া হবে। শর্তাবলী পছন্দ হলে এফএসডিএল টেন্ডার কিনতেও পারে। অন্যথায় চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় থাকা ছাড়া উপায় নেই। আসলে ফেডারেশন সভাপতির সঙ্গে কোনও আলোচনাতেই নারাজ এফএসডিএল। সম্পর্ক প্রায় তলানিতে। ওদিকে আদালতের রক্ষাকবচ কল্যাণ চৌবের হাতিয়ার। এটুকু পরিষ্কার, প্রভাব বা সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে কোনও স্পনসর বা কমার্শিয়াল পার্টনার আনতে ব্যর্থ তিনি। চেয়ার আঁকড়ে পড়ে থাকাই লক্ষ্য। ইগোর লড়াইয়ে কোচ, ফুটবলাদের ভবিষ্যৎ কুয়াশায় ঢাকা।