নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বছরের অধিকাংশ সময় শুখা। জল, স্রোত কিছুই থাকে না। ভারী বৃষ্টি ও হড়পাবানে আচমকা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ঘিস নদীর উপনদী লেটি। তাতেই ফাঁসে ১০ ছাত্রছাত্রী! তারা হাতে হাত ধরে নদী পার করে। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে কালিম্পং ও জলপাইগুড়ির জেলার সীমানা পোকরেবংয়ে। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই টনক নড়েছে কালিম্পং জেলা প্রশাসনের। বৃহস্পতিবার তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ছাত্রছাত্রী সহ গ্রামবাসীদের পারাপারের জন্য লেটি নদীর পাশেই মোতায়েন করা হয়েছে ট্রাক্টর। একই সঙ্গে সেই এলাকার পাশেই একটি সেতু তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
কালিম্পংয়ের গোরুবাথান ও জলপাইগুড়ির ওদলাবাডির মধ্যদিয়ে প্রবাহিত লেটি নদী। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোরুবাথান ব্লকের বাসিন্দাদের একাংশ জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার, ওদলাবাড়ি, রাজগঞ্জ ব্লকের উপর নির্ভরশীল। গোরুবাথানের ছেলেমেয়েরা ওদলাবাড়িতে পড়াশোনাও করে। তারা সারা বছর লেটি নদীর উপর দিয়ে যাতায়াত করে। অন্যান্য দিনের মতো বুধবার বিকেলে ওদলাবাড়ি থেকে ১০ জন ছাত্রছাত্রী গোরুবাথানে যাচ্ছিল। আচমকা লেটি নদীতে জল বৃদ্ধিতে তারা মাঝ নদীতে ফেঁসে যায়। কোনও রকমে তারা একে অপরের হাত ধরে চেন তৈরি করে নদী পার হয়।
সেই ঘটনার ভিডিও পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে কালিম্পং জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গোরুবাথানের বিডিও শোভন দাস, গোরুবাথান থানার ওসি প্রতীক সুব্বা সহ পোকরেবং পঞ্চায়েতের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে বিডিও বলেন, সারা বছর নদীটি শুখা থাকে। ভারী বৃষ্টি হওয়ায় এই নদীতে জলস্তর বেড়েছে। পাহাড়ি এই নদীতে নৌকা চলাচল করতে পারবে না। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের নদী পারাপারের জন্য সেখানে ট্রাক্টর রাখা হয়েছে। বাসিন্দাদের সুবিধার্থে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ার।
বিডিও আরও বলেন, ওই এলাকার অধিকাংশ জলপাইগুড়ি জেলার অংশ। সেখানে আমরা সেতু তৈরি করতে পারব না। তাই ওই এলাকা থেকে কিছুটা দূরে বারোপান্না গ্রামে লেটি নদীতে সেতু তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। বনদপ্তর অনুমোদন দিলেই প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত করার কাজে হাত দেওয়া হবে।