Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাত্র চার মাস আগে বসানো সিউড়ি পুরসভার ক্লক টাওয়ারের ঘড়ি বিকল

শহরের সৌন্দর্যায়নের জন্য প্রায় চার মাস আগেই বসানো হয়েছিল ক্লক টাওয়ার। কিন্তু, তা আজ অকেজো হয়ে পড়েছে। জ্বলছে না রঙিন আলোও।

মাত্র চার মাস আগে বসানো সিউড়ি পুরসভার ক্লক টাওয়ারের ঘড়ি বিকল
  • ২৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, সাঁইথিয়া: শহরের সৌন্দর্যায়নের জন্য প্রায় চার মাস আগেই বসানো হয়েছিল ক্লক টাওয়ার। সেই ঘড়িই কাঁটাই শহরের মানুষকে সময় জানান দিত। কিন্তু, তা আজ অকেজো হয়ে পড়েছে। জ্বলছে না রঙিন আলোও। সন্ধ্যা হলেই অন্ধকার হয়ে পড়ছে শহরের প্রাণকেন্দ্রে থাকা ক্লক টাওয়ার। নির্বাচনের আগে ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ শহরের সৌন্দর্যায়নের জন্য সরকারি বাসস্ট্যান্ডের সামনের রাস্তায় নেতাজি মূর্তি সরিয়ে বসানো হয়েছিল ক্লক টাওয়ার। নেতাজির মূর্তি সরানোয় পুরসভার ভূমিকা নিয়ে শহরে বিতর্কও শুরু হয়েছিল। ঘটা করে পুরসভার তরফে উদ্বোধন করা হয়েছিল সেই ক্লক টাওয়ার। 

Advertisement

বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরের এমন এক জায়গায় ঘড়িটি বসানো হয়েছে, যার কারণে শহরের রাস্তা আরও সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে। চলতি বছরে প্রথম দিকে বিধায়ক তহবিলের টাকায় ক্লক টাওয়ার বসানো হয়েছিল। কিন্তু, সময়ের কী পরিহাস, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই ক্লক টাওয়ার অকেজো হয়ে পড়েছে। সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই ক্লক টাওয়ারের ঘড়ি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ক্লক টাওয়ারের সৌন্দর্যায়নের জন্য লাগানো রঙিন আলোও নিভে গিয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরের রাস্তাঘাটের সেই অর্থে কোনো উন্নয়নই হয়নি। শুধু শহরকে সাজানোর জন্য ক্লক টাওয়ার বসানো হয়েছিল। সিউড়ি সরকারি বাসস্ট্যান্ডের কাছে রাস্তার মাঝখানে বসিয়ে দেওয়ায় যানজটের সময় ভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ওই ক্লক টাওয়ার। কয়েক বছর আগে ওই জায়গায় একটি নেতাজির মূর্তি ছিল। ক্লক টাওয়ার বসানোর জন্য ওই মূর্তি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই মূর্তির পরিবর্তে সিউড়ি বেসরকারি বাসস্ট্যান্ডের কাছে নর্দমার উপরেই একটি নেতাজির মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। যা নিয়ে নির্বাচনের আগে কার্যত বিতর্কের মুখে পড়েছিল পুরসভা। বাসিন্দাদের দাবি, এই ক্লক টাওয়ারের পরিবর্তে শহরে উন্নয়নে জোর দিলে ভোটের সময় হয়তো তৃণমূলকে শহরে পিছিয়ে থাকতে হত না। 
সিউড়ি অন্যান্য প্রাচীন শহরগুলির মধ্যে অন্যতম। অথচ ট্রেজারি বিল্ডিংয়ের উপর যে হেরিটেজ ঘড়ি রয়েছে, সেটিকে সারানোর কোনো উদ্যোগই নেয় না প্রশাসন। উদ্বোধনের পরেই মাস খানেক এর মধ্যেই ঘড়ি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যা পুরসভা থেকে পুনরায় ঠিক করা হয়। ফের কয়েক দিনের মধ্যেই ক্লক টাওয়ার আবার অকেজো হয়ে পড়েছে। শহরের এক বাসিন্দা সৌমেন প্রামাণিক বলেন, শুধুমাত্র ক্লক টাওয়ার বসিয়ে শহরকে সাজানো যায় না। শহরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট প্রচণ্ড খারাপ। আর রাস্তার মাঝখানে ওসব বসিয়ে শহরকে সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনা যেন বৃথা চেষ্টা বলে মনে হয়। ওই জায়গাতে আমাদের দেশনায়ক নেতাজির মূর্তিটি দীর্ঘকাল ধরেই ছিল। সেই মূর্তি সংস্কার তো দূর, মূর্তি সরিয়ে অন্যত্র আর একটি নেতাজির মূর্তি বসিয়ে মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করে ছিল পুরসভা। যার ফল বিগত নির্বাচনে হাতেনাতে পেয়েছিল। পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি কয়েকদিন ছিলাম না। খোঁজখবর নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ