নিজস্ব প্রতিনিধি রায়গঞ্জ, সংবাদদাতা মালদহ ও হিলি: পুজোর বাজার জমজমাট গৌড়বঙ্গে। আপাতত থমকে বৃষ্টি। আকাশও মোটের ওপর পরিষ্কার। মহালয়ার আগের দিন গৌড়বঙ্গ জুড়ে মানুষের ঢল হাসি চওড়া করেছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে বড় মাপের দোকানদের। নাওয়া খাওয়া ভুলে তাঁরা আপাতত ব্যস্ত ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাকের সম্ভার তুলে ধরতে। প্রসাধন সামগ্রী থেকে খাবার, সব কিছুরই চাহিদা তুঙ্গে। রেডিমেড পোশাকের প্রবল চাহিদার যুগেও ব্যস্ততা কম নয় দর্জিদের। অনেকেই পছন্দ অনুযায়ী অর্ডার দিয়ে জামা, প্যান্ট বানিয়ে নিচ্ছেন।
শনিবার হাফ ছুটি। বৃষ্টির দৌরাত্ম্যও ছিল না। তাই সকাল দশটা বাজতে না বাজতেই মালদহের মানুষ বাজারমুখী হয়েছেন। ক্রেতাদের ভিড় যে ঊর্ধ্বমুখী থাকবে, তা আঁচ করে খুব সকালেই দোকান খুলে প্রস্তুতি নিয়েছেন বিক্রেতারা।
ইংলিশবাজারের দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন পুর বাজারের বড় পোশাকের দোকানের মালিক দেবাশীষ কুণ্ডু বলেন, বাজার জমে গিয়েছে। বিশেষ ধরণের শাড়ি দুই থেকে চার হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। বাচাদের শার্ট, প্যান্ট ন্যূনতম ৪০০ টাকা দাম।
এক প্রসাধন সামগ্রী বিক্রেতা বলেন, সস্তা থেকে নামীদামী ব্র্যান্ডের লিপস্টিক, পারফিউম এবং অন্যান্য সামগ্রী কিনছেন ক্রেতারা। এক সময় অনেকে এসব জিনিস অনলাইনে কিনতেন। এখন মনে হচ্ছে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। বিভিন্ন জিনিস দেখে তুলনা করে তবেই কিনছেন ক্রেতারা।
সর্বসাকুল্যে আর বাকি মাত্র সাতদিন। তার আগে শনিবার রায়গঞ্জ শহর সহ উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর, ডালখোলা, কালিয়াগঞ্জের বাজারহাটে দেদার পুজোর কেনাকাটা হয়। রায়গঞ্জ শহরের মোহনবাটি বাজার চত্বরের আশেপাশের জামাকাপড়ের দোকান, শপিংমলগুলিতে শুধু শহরের ক্রেতা নয়, ব্লকের বাসিন্দাদের ভিড় ছিল নজরকাড়া। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, সব বয়সীদের পোশাক বিক্রি হয়েছে। পুজোর বাজার পুরোদমে জমে উঠেছে বলে জানান রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনুবন্ধু লাহিড়ী।
শনিবার বালুরঘাট শহরে বিভিন্ন বাজার, শপিং মলগুলিতে দিনভর কেনাকাটা করতে ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ে। ডানলপ মোড়, সিটি সেন্টার, স্ট্রিট কর্নার, নিউ মার্কেটের মতো বিভিন্ন এলাকার বাজারে বিক্রি ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টির কারণে বাজার মার খাচ্ছিল। এদিন আবহাওয়া ভালো থাকায় বাজারে ক্রেতাদের ঢল নামে।