Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাটির থালা থেকে পানপাতায় শিল্পকর্ম, কৃষ্ণনগরের প্রজোতির কদর বিদেশেও

বাঙালির পুজো কিংবা বিয়ে দুই ক্ষেত্রেই রয়েছে নানা চিরাচরিত রীতি ও ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যের উপকরণগুলিতেই নিজের তুলির টানে নতুন মাত্রা যোগ করছেন কৃষ্ণনগর নতুনবাজারের তরুণী শিল্পী প্রজোতি গড়াই।

মাটির থালা থেকে পানপাতায় শিল্পকর্ম, কৃষ্ণনগরের প্রজোতির কদর বিদেশেও
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: বাঙালির পুজো কিংবা বিয়ে—দুই ক্ষেত্রেই রয়েছে নানা চিরাচরিত রীতি ও ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যের উপকরণগুলিতেই নিজের তুলির টানে নতুন মাত্রা যোগ করছেন কৃষ্ণনগর নতুনবাজারের তরুণী শিল্পী প্রজোতি গড়াই। কুলো, ডালা, মাটির থালা, ট্রে থেকে শুরু করে গাছকৌটো, সিঁদুরকৌটো, পানপাতা কিংবা বিয়ের তত্ত্ব সবকিছুর উপরেই তাঁর নিপুণ হাতের নকশা ও আলপনা ফুটে উঠছে। আর কৃষ্ণনগরের এই তরুণীর শিল্পকর্ম এখন শুধু শহর কিংবা রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও পৌঁছে যাচ্ছে।

Advertisement

সামনেই পুজোর মরশুম। তাই এখন ব্যস্ততা আরও বেড়েছে প্রজোতির। কুলো, ডালা, মাটির থালা কিংবা ট্রের উপর একের পর এক দেবদেবীর ছবি ও নানা ধরনের নকশা ফুটিয়ে তুলছেন তিনি। পুজোর সাজসজ্জার পাশাপাশি বাঙালি বিয়ের ঐতিহ্যবাহী উপকরণগুলিকেও নিজের শিল্পকর্মের মাধ্যমে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছেন। বিয়ের তত্ত্ব সাজানোর সামগ্রীতে আলপনা, ফুল, লতাপাতা এবং বিভিন্ন বাঙালি ঐতিহ্যবাহী নকশার ব্যবহার তাঁর কাজকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
২০২২ সালে এই কাজ শুরু করেন প্রজোতি। মাত্র চার বছরের মধ্যেই তাঁর তৈরি সামগ্রী পৌঁছে গিয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এমনকী ক্যালিফোর্নিয়া, হংকং, জার্মানি, দুবাই-সহ বিদেশের বিভিন্ন জায়গাতেও তাঁর কাজ পৌঁছে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করেই মূলত তাঁর শিল্পকর্মের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। ছোটবেলা থেকেই আঁকার প্রতি ছিল তাঁর প্রবল আগ্রহ। মাত্র চার বছর বয়স থেকেই আঁকার হাতেখড়ি। পরবর্তীতে আঁকার উপর স্নাতকোত্তর শেষ করার পাশাপাশি শান্তিনিকেতন থেকে আলপনার উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। নিজের দীর্ঘদিনের আঁকার অভিজ্ঞতা এবং আলপনার প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়েই শুরু করেন এই অভিনব উদ্যোগ।
প্রজোতি বলেন, ২০২২ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় এইরকম একটি কাজ দেখে আমি অনুপ্রাণিত হয়। আমিও তো এমন কাজ করতে পারি। তার পরেই আমার মা স্বপ্না গড়াই  প্রথমে ১০০ টাকা দিয়ে তিনটি কুলো কিনে দিয়েছিলেন এবং কাজ করার জন্য উৎসাহ জাগিয়েছিলেন। তারপর ওই তিনটি কুলোর উপর নকশা করে আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করি। সেখান থেকেই একের পর এক অর্ডার আসতে থাকে। আজ আমার কাজ বিদেশেও যাচ্ছে। পুজোর সামনে তাই দেবদেবীর নানা মূর্তির ছবি এখন আমি ফুটিয়ে তুলছি। প্রজোতির তৈরি সামগ্রীর দাম মূলত নির্ভর করে আকার এবং নকশার ধরন অনুযায়ী। ছোট কুলোর দাম শুরু হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে, বড় কুলোর দাম প্রায় ৬০০ টাকা। নকশা করা সিঁদুরকৌটো ৩৫০ টাকা, গাছকৌটো ৫০০ টাকা এবং পানপাতা ২৫০ টাকা থেকে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও পুজোর প্যান্ডেল কিংবা বাড়ির সাজসজ্জার জন্যও তাঁর কাছে বিভিন্ন ধরনের অর্ডার আসছে। এই সাফল্যের পিছনে পরিবারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। কাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাবা-মা তাঁকে সহযোগিতা করেন। তাঁদের উৎসাহ এবং পূর্ণ সমর্থনই তাঁকে এই কাজে আরও এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে বলে জানান প্রজোতি। তবে শুধু নিজের কাজের পরিধি বাড়ানোই নয়, ভবিষ্যতে আরও অনেক মেয়েকে এই কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করাই লক্ষ্য প্রজোতির।  শিল্পসৃষ্টিতে ব্যস্ত শিল্পী প্রজোতি গড়াই। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ