সন্তানের জন্মের থেকে একজন বাবা-মায়ের কাছে আনন্দের কিছু হতে পারে না। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ সন্তানের আশা সকল মা-বাবাই করে থাকেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় জন্মের সময় শিশুদের শারীরিক কিছু সমস্যা থাকে। তার মধ্যে অন্যতম হাড়ের সমস্যা। সেই সব সমস্যা কতটা গুরুতর, তার চিকিৎসা কী আছে, সে সব নিয়ে লিখছেন শিশুদের হাড় বিশেষজ্ঞ ডাঃ সৌম্য পাইক।
শিশুদের হাড়ের সমস্যা মূলত দু’ধরনের। এক, জন্মগত। দুই, দুর্ঘটনা সংক্রান্ত। জন্মগতভাবে হাড়ের সমস্যা নিয়ে নানা ভুল ধারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে। ঠিক সময়ে গুরুত্বও দেওয়া হয় না। ফলে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেই সমস্যা সারা জীবনের জন্য রয়ে যায়। কিন্তু কোনও শিশু যদি হাড়ের সমস্যা নিয়ে জন্মায়, তাহলে তা সারিয়ে তোলা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভব। শুধু প্রয়োজন সময়ে চিকিৎসা শুরু করা। ‘বড় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে’— এই মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
নবজাতকদের হাড়ের সমস্যার মধ্যে অন্যতম ক্ল ফুট। এক্ষেত্রে পা ধনুকের মত বাঁকা হয়। অনেকের ধারণা আছে তেল মালিশ করলে পা সোজা হয়ে যাবে। যা আদপেই ঠিক নয়। শিশুর জন্মের ১০ দিনের মধ্যে পা প্লাস্টার করে এবং ছোট অস্ত্রোপচার করে সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। এছাড়া হিপ ডিসলোকেশন বা কোমরের হাড় সরে যাওয়া, হাঁটু ঘুরে যাওয়ার মত সমস্যা নিয়েও প্রতি হাজারে একজন শিশু জন্মায়। কিন্তু এর সব কটিই সময়ে চিকিৎসা করে সারিয়ে তোলা যায়। হাতের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
শিশুদের আরও একটি সমস্যা এখন বেশি দেখা যায়, তা হল সেরিব্রাল পলসি। সময়ের আগে শিশুর জন্ম বা প্রসবের সময় কোনও জটিলতা থেকে শিশুর মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি থেকে সেরিব্রাল পলসি দেখা দেয়। তবে এর প্রভাব বুঝতে দেড়-দু’বছর সময় লাগে। সেরিব্রাল পলসির প্রভাবে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, যার মধ্যে অন্যতম বসা বা হাঁটার মতো সমস্যা। এগুলিকেও ঠিক সময়ে কিছু বিশেষ অস্ত্রোপচার, ফিজিওথেরাপির সাহায্যে ঠিক করা যায়। সেরিব্রাল পলসি নিয়ে আমাদের দেশে এখনও সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এমন শিশুকে বিশেষভাবে সক্ষম তকমা দেওয়া হয়। কিন্তু তারা সহজেই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।
দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে শিশুদের খাট থেকে বা খেলতে গিয়ে হাড় ভেঙে বা সরে যাওয়ার ঘটনাই বেশি ঘটে। তবে প্রাপ্তবয়স্ক আর শিশুদের হাড়ের ক্ষেত্রে কিছুটা তফাত আছে। ‘রিমডেলিং পোটেনশিয়াল’-এর জন্য বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের হাড় ঠিক হয়ে যায়। তাই এক্স-রে রিপোর্ট দেখে অভিভাবকদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসক না বললে অকারণে অস্ত্রোপচার করে প্লেট বসাতে যাবেন না। ভালো করে প্লাস্টারেই কাজ হয়ে যেতে পারে। অতি-চিকিৎসাও ক্ষতিকর।
লিখেছেন শুভজিৎ অধিকারী