নয়াদিল্লি: রাহুল দ্রাবিড়ের যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন চেতেশ্বর পূজারা। চওড়া ব্যাটে দিনের পর দিন টিম ইন্ডিয়াকে ভরসা জুগিয়েছেন তিনি। ১০৩টি টেস্টে ৭ হাজারেরও বেশি রান রয়েছে ঝুলিতে। তবে ২০২৩ সালের পর সুযোগ পাননি দেশের জার্সিতে মাঠে নামার। একরাশ অভিমান নিয়ে গত ২৪ আগস্ট সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেন তারকা ব্যাটার। বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে একাধিক বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন পূজারা।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাটিং করার ধৈর্য, জমাট রক্ষণ ও মানসিক দৃঢ়তাই টেস্ট ক্রিকেটে সাফ্যল্যের মূল রসায়ন। প্রতিপক্ষ বোলারদের হতাশা বাড়ানোর মতো সেই গুণাবলী ইদানীং খুব বেশি ব্যাটারের মধ্যে দেখা যায় না। পূজারা অন্তত তেমনটাই মনে করছেন। তাঁর মন্তব্য, ‘এটা অস্বীকারের উপায় নেই যে, টেস্টে ক্লাসিক্যাল ব্যাটিং ক্রমশ লুপ্তপ্রায়। তবে তাতে আমি আবাক নই। কারণ, সময়ের সঙ্গে ক্রিকেটে বিবর্তন আসাটাই স্বাভাবিক। ইদানীং আইপিএলের মতো সাদা বলের ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের নিরিখে টেস্টের অধিকাংশ দল বাছাই হয়। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচিত ক্রিকেটাররা আগ্রাসী ব্যাটিং করতে পছন্দ করে। অবশ্য তাদের মধ্যে লোকেশ রাহুল এখনও ক্যাসিক্যাল ব্যাটিং করে।’ কেরিয়ারের বেশিরভাগ সময় তিন নম্বরে ব্যাট করেছেন পূজারা। ভারতীয় দলে সেই পজিশনে তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি এখনও মেলেনি। এই প্রসঙ্গে তারকা ব্যাটার বলেন, ‘এটা সত্যি, এখনও তিন নম্বর পজিশনে তেমন কেউ নজর কাড়তে পারেনি। তবে সাই সুদর্শন শুরুটা ভালো করেছে। করুণ নায়ারও ইংল্যান্ডে অর্ধশতরান করেছিল। তাছাড়া ভারতে প্রতিভার অভাব নেই। আশা করি, শীঘ্রই সমস্যাটা মিটে যাবে।’
২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষবার টেস্ট খেলেছিলেন পূজারা। অবশ্য তারপরও ঘরোয়া ক্রিকেট এবং কাউন্টিতে নিয়মিত খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। আসন্ন ঘরোয়া মরশুমেও সৌরাষ্ট্রের হয়ে খেলার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ইংল্যান্ডে ধারাভাষ্য দেওয়ার পর বাড়ি ফিরেই অবসর ঘোষণা করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে পূজির মন্তব্য, ‘অবসরের চিন্তাভাবনা অনেকদিন ধরেই মাথায় ঘুরছিল। ইংল্যান্ড থেকে ফিরে পরিবার, বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান নিয়েছি। আসলে আমি খেলা মানে একজনের জায়গা দখল করে রাখা। সেটা চাইনি।’
পূজারার অবসরে বিরাট কোহলি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘তিন নম্বরে ব্যাট করে পূজারা আমার কাজ অনেক সহজ করেছে।’ এই প্রসঙ্গে চেতেশ্বর বলেন, ‘কোহলি গ্রেট ব্যাটার। ওর কাজ সহজ করতে পেরেছি জেনে গর্ব হচ্ছে।’