নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষে শনিবার থেকে রাজ্যজুড়ে অনলাইনে কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ২৯আগস্ট থেকেই নতুন ব্যাচের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কলেজে ক্লাস শুরু হবে। তার আগে কলেজে ভর্তি নিয়ে তৎপরতা বেড়েছে। কিন্তু, কলেজে ভর্তির সামগ্রিক চিত্রটা মোটেও আশানুরূপ নয়। কারণ, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৭৪হাজার আসনের জন্য প্রথম তিনদিনে মাত্র ১৪হাজার ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছেন। শতাংশের নিরিখে মোট আসনের মাত্র ১৯শতাংশ। নামী কলেজ থেকে সাধারণ কলেজ সর্বত্রই ছবিটা হতাশাজনক।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সদর তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ে প্রথম সেমেস্টারে মোট আসন ২৩১৫টি। ফার্স্ট প্রেফারেন্স হিসেবে আবেদন জমা পড়েছিল মাত্র ৬৬০টি। অর্থাৎ আবেদনকারী সকল পড়ুয়া ভর্তি হলেও ওই কলেজে মোট ১৬৫৫টি আসন ফাঁকা থাকবে। তবে, প্রথম তিনদিনে ভর্তির যে চিত্র তাতে অনলাইনে আবেদন করা অনেকেই ভর্তি হতে চাইছেন। সোমবার ওই কলেজের প্রিন্সিপাল আব্দুল মতিন জানান, তিনদিনে ২৬০জন ভর্তি হয়েছেন। আগামী ২৯আগস্ট থেকে ক্লাস শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেইমতো অনলাইনে ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের ডকুমেন্টস ভেরিফিকেশনের কাজও ওই কলেজে শুরু হয়েছে। শ্রীরামপুরের মল্লিকা বর্মন বোটানি অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর সোমবার নথি যাচাইয়ের কাজে কলেজে আসেন। তিনি বলেন, প্রায় তিন মাস আগে উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরিয়েছে। তারপর ভর্তি হতে এতটা দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে সেশন শেষ করতে সমস্যা হবে।
যোগদা সৎসঙ্গ পালপাড়া মহাবিদ্যালয়ে ফার্স্ট সেমেস্টারে মোট আসন সংখ্যা ১৫৬২টি। অথচ ভর্তির জন্য মাত্র ৩৬৭টি আবেদন জমা পড়েছিল। সোমবার পর্যন্ত ওই কলেজে ২২৫জন ভর্তি হয়েছেন। প্রত্যেক আবেদনকারী ভর্তি হলেও ওই কলেজে প্রায় ১১৯৫টি আসন ফাঁকা পড়ে থাকবে। সোমবার প্রিন্সিপাল প্রদীপ্তকুমার মিশ্র বলেন, আমাদের কলেজে এপর্যন্ত ২২৫জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছেন। ডকুমেন্টস ভেরিফিকেশনের কাজও চলছে। ২৯তারিখ থেকেই ক্লাস শুরু হবে।
মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১৯৬৫টি। ওই কলেজে বেশকিছু ভোকেশনাল কোর্স রয়েছে। সেগুলি নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ রয়েছে। এখানে ভর্তির জন্য মোট ৮৭২টি আবেদন জমা পড়েছিল। সোমবার পর্যন্ত ৪৪২জন ভর্তি হয়েছেন বলে প্রিন্সিপাল স্বপনকুমার মিশ্র জানান। একসময় মুগবেড়িয়া কলেজে প্রচুর সংখ্যক ছাত্রছাত্রী ভর্তি হতেন। অথচ, সেই কলেজে আবেদনকারী প্রত্যেকে ভর্তি হলেও মোট ১০৯৩টি আসন ফাঁকা পড়ে থাকবে।
বিদ্যাসাগর বিদ্যালয়ের অধীন মোট ৫২টি ডিগ্রি কলেজে ৭৪হাজার ৪৩২টি আসন রয়েছে। প্রায় চার দফায় সময়সীমা বাড়িয়ে মোট আবেদন জমা পড়ে ৩৩হাজার ৬৪০টি। সোমবার দুপুর পর্যন্ত মাত্র ১৪হাজার ৬৩জন ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ, আবেদনকারীদের অর্ধেকও প্রথম তিনদিনে কলেজে ভর্তি হননি। আবেদন করার পরও একটা অংশ ভর্তি হতে বিমুখ বলে অনুমান করা হচ্ছে। আসলে সেশন শুরু হতে অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ায় অনেকে নানারকম স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। কেউ কেউ ভিনরাজ্যেও পাড়ি দিয়েছেন। তাই কলেজে মোট আসনের ধারেকাছেও ছাত্রছাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না।
২০১৬ সালের পর স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। এত দীর্ঘ সময়ে কয়েক লক্ষ ছেলেমেয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং বিএড ডিগ্রি করে বসে রয়েছেন। তাঁদের অসহায় অবস্থা দেখে নয়া প্রজন্ম জেনারেল কোর্স নিয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে। তাম্প্রলিপ্ত কলেজে অনলাইনে ভর্তির পর নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। সোমবার তোলা নিজস্ব চিত্র