নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নেই ব্ল্যাকবোর্ড। বসার জন্য একটি বেঞ্চ পর্যন্ত নেই। নির্মীয়মাণ একটি বাড়ি, সেখানে মেঝেতে বসে ক্লাস করছে কয়েকজন পড়ুয়া। সেখানেই মিড ডে মিল রান্না হচ্ছে। এ দুরাবস্থার কারণ, প্রায় একমাস ধরে মূল স্কুলভবনটি জলে ডুবে আছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নেই ব্ল্যাকবোর্ড। বসার জন্য একটি বেঞ্চ পর্যন্ত নেই। নির্মীয়মাণ একটি বাড়ি, সেখানে মেঝেতে বসে ক্লাস করছে কয়েকজন পড়ুয়া। সেখানেই মিড ডে মিল রান্না হচ্ছে। এ দুরাবস্থার কারণ, প্রায় একমাস ধরে মূল স্কুলভবনটি জলে ডুবে আছে।
এমন নয় যে শুধু এ বছরই এই অবস্থা হয়েছে। অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে প্রতি বর্ষায় এমন ভোগান্তি পোহাতে হয় হাওড়ার বাঁকড়া এলাকার মুন্সিডাঙা শেখপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-পড়ুয়াদের। যদিও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের দাবি, বিষয়টি আগে থেকে তাঁদের জানানো হয়নি।
স্কুল বিল্ডিংটি দোতলা। দেখে মনে হবে যেন একটি পরিত্যক্ত বাড়ি। তা ডুবে রয়েছে প্রায় পুকুর সমান জলের নীচে। একতলার সবকটি ক্লাসরুম জলে থইথই অবস্থা। কাঠের বেঞ্চ জলে নষ্ট হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষের ভিতর জমে নোংরা জল। সর্বত্র দুর্গন্ধ। প্রায় একমাস ধরে এখানে বন্ধ পঠনপাঠন। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, দশ বছর আগেও এমন অবস্থা ছিল না। তখন ক্লাসরুম কচিকাঁচাদের ভিড়ে গমগম করত। একসময় পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল চারশোরও বেশি। কিন্তু প্রতি বর্ষায় স্কুল জলে ডুবলেই শিকেয় ওঠে পড়াশোনা। তাই পড়ুয়া সংখ্যা কমতে কমতে বর্তমানে মাত্র ৮০তে এসে ঠেকেছে। বর্তমানে রয়েছেন চার জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। এই পরিস্থিতেও পঠন পাঠন সচল রাখতে কিছুদিন আগে স্থানীয় একটি ক্লাবের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা। তারপর ওই এলাকার একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে আপাতত ক্লাস চালানোর ব্যবস্থা হয়েছে। সেখানে চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ ছাড়া চলছে ক্লাস। আসছে হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র ছাত্রছাত্রী।
শেখপাড়া প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক পল্টু দাস বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে বর্ষাকালে স্কুলের এই অবস্থা হচ্ছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং বিদ্যালয় পরিদর্শককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এরকম চলতে থাকলে স্কুলে আর কোনও পড়ুয়াই থাকবে না।’ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুল বিল্ডিং থেকে ৫০০ মিটার দূরে একটি বড় খাল রয়েছে। সেটি গঙ্গার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। জোয়ারের সময় খাল থেকে জল উপচে স্কুলের ভিতর ঢুকে যায়। জমা জল সরার কোনও সম্ভাবনা থাকে না। অভিভাবকদের বক্তব্য, ‘জলের উপর দিয়েই বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে নিয়ে আসতে হচ্ছে। সর্দিকাশিতে ভুগছে বাচ্চারা। অনেকেরই জ্বর হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্কুলের পাঠাবো কি না ভাবছি।’ তবে স্কুলের যে এই পরিস্থিতি, সে কথা কিছুই জানানো হয়নি বলে দাবি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের। ডিপিএসসি চেয়ারম্যান কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘নিচু এলাকা হওয়ার কারণে স্কুলে জল ঢুকছে। এই সমস্যার কথা স্কুল কর্তৃপক্ষের জানানো উচিত ছিল। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নিজস্ব চিত্র