নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: বিচিত্রানুষ্ঠান ছিল শনিবার রাতে। সেখানে গিয়ে আর বাড়ি ফিরল না বছর সতেরোর কিশোরী। ফোন করে ডেকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ উঠল দূর সম্পর্কের দাদার বিরুদ্ধে! রবিবার সকালে প্রতিবেশীর শৌচালয়ের সামনে থেকে উদ্ধার হল তার অর্ধনগ্ন, থেঁতলানো দেহ। মুখে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন। মাথার পিছনেও ব্যাপক ক্ষত। রবিবার গাইঘাটা থানার রামচন্দ্রপুরের এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেই ‘গুণধর’ দাদা প্রহ্লাদ দাসকে (২৩)। কিন্তু এই নৃশংসতার পিছনে একজনই নাকি গণধর্ষণ করে খুন, সেই প্রশ্নই তুলছেন স্থানীয়রা। যদিও তদন্তের এই পর্যায়ে প্রতিটি সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত বলেন, ‘খবর পেয়ে গাইঘাটা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।’ রবিবার ধৃতকে বনগাঁ আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।
জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে রামচন্দ্রপুর বাজারে দুর্গাপুজো কমিটির বিচিত্রানুষ্ঠান ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ প্রতিবেশী এক বান্ধবীর সঙ্গে সেখানে যায় ওই কিশোরী। রাত ১২টা নাগাদ মোবাইলে ফোন আসে। পরক্ষণেই মেসেজ। তা দেখেই বান্ধবীকে ‘অপেক্ষা’ করতে বলে অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যায় সে।
আর ভোর হতেই সামনে এল শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য। অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে উদ্ধার হল দেহ। এলাকার এক বৃদ্ধা শৌচালয়ে যাওয়ার সময় দেহটি দেখতে পান। খবর ছড়াতেই ছুটে আসেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে। দেহের অবস্থা দেখে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। মুখ থেঁতলানো, মাথার পিছনে আঘাতের চিহ্ন, দেহ অর্ধনগ্ন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, যৌন নির্যাতনের পর খুন করা হয়েছে তাকে।
কিশোরীর বাড়ি গোপালনগরের তরণীপুরে। ছোটো থেকে সে গাইঘাটার রামচন্দ্রপুরে মামার বাড়িতে থাকত। চার বোনের মধ্যে সেজো। স্থানীয় একটি স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত প্রহ্লাদ তার দূর সম্পর্কের দাদা। তাদের দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে দাবি সূত্রের। তবে পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত জানিয়েছে, কিশোরী তাকে ও তার মাকে গালিগালাজ করত। সেই আক্রোশ থেকেই খুন করেছে সে। নির্যাতিতার মামি বলেন, ‘আমি ও ননদ অনুষ্ঠান দেখতে যাচ্ছিলাম। রাস্তায় ভাগ্নির সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তখন সে বলেছিল বান্ধবীর সঙ্গে যাব। আর ওর সঙ্গে গিয়েওছিল। কিন্তু রাতে বাড়ি ফেরেনি। ভেবেছিলাম বান্ধবীর বাড়িতে আছে। ফোনেও যোগাযোগ করতে পারিনি। রবিবার ভোরে প্রতিবেশীরা আমাকে খবর দেয়। গিয়ে দেখি এই অবস্থা!’
ঘটনার পর এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও বিএসএফ। রবিবার দুপুরে ফরেনসিক দলের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। কিন্তু কার ফোন পেয়ে গিয়েছিল কিশোরী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে গাইঘাটা পুলিশ।



