সংবাদদাতা, বোলপুর: দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে সহপাঠী মারধর করার ঘটনায় উত্তাল বোলপুরের রায়পুর-সুপুর পঞ্চায়েতের একলব্য রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৮ জুলাই। তবে ছাত্রটির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদের শাস্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি স্কুলের অধ্যক্ষের অপসারণ চেয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকী পরিস্থিতি সামাল দিতে এদিন সন্ধ্যায় জেলাশাসক ওখানে যান। শেষমেষ জেলাশাসকের আশ্বাসে অভিভাবকরা শান্ত হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সরানো হয়েছে অধ্যক্ষকে। স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে অভিযুক্ত ছাত্রকেও।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ জুলাই। ক্লাসের বেঞ্চে বসাকে কেন্দ্র দশম শ্রেণির দুই ছাত্র শচীন মাড্ডি ও আকাশ হেমব্রম বচসায় জড়িয়ে পড়ে। সেই ঝামেলার জের হস্টেল পর্যন্ত পৌঁছয়। অভিযোগ, ঝামেলার মীমাংসা করার জন্য আকাশ তার রুমে শচীনকে ডেকে পাঠায়। এরপর সে আসতেই তাকে খাটে চেপে সজোরে লাথ মারে আকাশ। আর তাতেই শচীন ছিটকে পড়ে পাশে থাকা একটি খাটে। সেই খাটের কোনায় তার পেটে জোর আঘাত লাগে। এর পরদিন সে অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রাথমিকভাবে স্কুলেই তার চিকিৎসা করা হয়। পাশাপাশি ইসিজি করারও ব্যবস্থা করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বেলা বাড়তেই তার ব্যথা বাড়ায় প্রথমে তাকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল ও পরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়।
জানা গিয়েছে, তার প্লীহায় আঘাত রয়েছে। ডাক্তাররা তড়িঘড়ি অপারেশন করে। এই মুহূর্তে তার অবস্থা স্থিতিশীল। এই ঘটনায় স্কুলের তরফে নিয়মিত খোঁজ রাখা হয়েছে বলে দাবি অধ্যক্ষ সুপ্রিয়কুমার সাধুর। কিন্তু, অভিযোগ, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ার পরেও আচমকা এক সপ্তাহ পর এদিন অভিভাবক ও স্থানীয়রা স্কুল চত্বরে দফায় দফায় দিনভর বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন বোলপুর শ্রীনিকেতন ব্লকের জয়েন্ট বিডিও ও বোলপুর থানার পুলিস। এমনকী, পরবর্তীতে মহকুমা শাসক অয়ন নাথও উপস্থিত হন। কিন্তু বেলা বাড়তেই অভিভাবক ও স্থানীয়দের বিক্ষোভ বাড়তে থাকে। এমনকী, বিডিও সত্যজিৎ বিশ্বাসের সঙ্গে বচসায় জড়ান স্থানীয়রা। এমতাবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় স্কুল ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন জেলাশাসক বিধান রায় ও এডিএম(জেনারেল) নিতু শুক্লা। অভিভাবক ও পড়ুয়াদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলায় ঘণ্টাখানেক পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। অভিভাবকদের মধ্যে সুরেশ হেমব্রম, বোদন মাড্ডির অভিযোগ, এই ধরনের ঘটনা স্কুলের হস্টেলে মোটেই কাম্য নয়। ওই ছাত্র সহ অধ্যক্ষের দ্রুত অপসারণ চাই। ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে তবে ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ওই ছাত্রকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অধ্যক্ষকেও সরানো হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। রায়পুর সুপুর পঞ্চায়েতের একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন অভিভাবকরা। নিজস্ব চিত্র