Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রবীন্দ্র সরোবরের সুইমিং পুলে ডুবে মৃত্যু দশম শ্রেণির পড়ুয়ার, চাঞ্চল্য

সকালে ফুটবল খেলে বন্ধুদের সঙ্গে পাবলিক পুলে স্নান সেরে বাড়ি যাবে— এটাই ছিল প্ল্যান। পুলে নামতেই ভয়াবহ কাণ্ড।

রবীন্দ্র সরোবরের সুইমিং পুলে ডুবে মৃত্যু দশম শ্রেণির পড়ুয়ার, চাঞ্চল্য
  • ১৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকালে ফুটবল খেলে বন্ধুদের সঙ্গে পাবলিক পুলে স্নান সেরে বাড়ি যাবে— এটাই ছিল প্ল্যান। পুলে নামতেই ভয়াবহ কাণ্ড। পায়ে কিছু একটা আটকে যেতেই জলের মধ্যে হাত-পা ছুড়তে থাকে দুই কিশোর। দেখতে পেয়ে বাকিরা জলে ঝাঁপ দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করে তাদের। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজন ধীরে ধীরে তলিয়ে যায়। মিনিট পঁয়তাল্লিশ বাদে তাকে উদ্ধার করে পেটে চাপ দিয়ে জল বের করার চেষ্টা করে বন্ধুরা। কিন্তু, বৃথা চেষ্টা। 

Advertisement

আদি বাড়ি বর্ধমানে। পড়াশোনার জন্য বালিগঞ্জে এসে বসবাস। গরমের ছুটিতে বর্ধমানে গিয়েছিল দশম শ্রেণির এই ছাত্র। আজ, সোমবার স্কুল খোলার দিন। তাই রবিবার সকালে বন্ধুদের সঙ্গে সে গিয়েছিল রবীন্দ্র সরোবর লাগোয়া মাঠে ফুটবল খেলতে। খেলা শেষে ওই সুইমিংপুলে নামে ১৬ বছরের কিশোর ও তার দুই বন্ধু। পুলটি বেশ গভীর। এই অপরিষ্কার পুলের ঝাঁজরির কাছে হঠাৎ লতাপাতায় আটকে যায় তার পা। পা টানতে না পারায় জলেই দমবন্ধ হয়ে যায় ওই কিশোরের। মৃতের নাম শিবমকুমার সিং। বালিগঞ্জ প্লেসে দুই দাদা আর মায়ের সঙ্গে থাকত সে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিস। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিস। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে এদিন থানায় রাত পর্যন্ত কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। 
শিবমের বাবা অশোক সিং বর্ধমানে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। সেখানেই তিনি থাকেন। পুলিস সূত্রে খবর, স্কুল ছুটি থাকায় সপরিবারে বর্ধমানে গিয়েছিলেন শিবমের মা। আজ, সোমবার সকালে মায়ের ফেরার কথা ছিল। তবে তিন ভাই গত বৃহস্পতিবারইফিরে আসেন কলকাতায়। ছোট থেকেই ফুটবল ছিল শিবমের নেশা। এদিন খেলার পর পাবলিক সুইমিং পুলে নামে তিন কিশোর।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ‘এই পুলটি দীর্ঘদিন পরিষ্কার হয়নি। তার জেরে তলদেশ প্রচুর লতাপাতা ও আগাছা তৈরি হয়েছে। ওই কিশোরদের বারণ করা সত্ত্বেও তারা জলে নেমেছিল। ওই তিনজন সাঁতরে পুলের গভীর অংশে চলে যায়।সেখানে আচমকা দু’জন ভারসাম্য হারায়। দু’জনেরই পা জড়িয়ে গিয়েছিল লতাপাতায়। আর্তনাদ শুনে তৃতীয় যুবক তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করে। তারমধ্যে শিবমের বন্ধু অভিষেককে উদ্ধার করা গেলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পুলিস ও বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের কর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, এই সুইমিং পুলটি পরিষ্কারের জন্য সংশ্লিষ্টকর্তৃপক্ষকে বারবার বলা হলেও তারা তা করেনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ