নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর কলকাতার মালাপাড়া এলাকায় একটি অভিজাত মিষ্টির দোকানের ভিতরেই ছুরিকাহত হলেন দোকানের কর্মী। বীরভূমের নানুরের বাসিন্দা বছর কুড়ির ওই তরুণের নাম গৌতম প্রধান। সোমবার সকালে দোকানের ভিতর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে মিলেছে একটি ছুরি। আইসক্রিম বিক্রির কমিশন নিয়ে গোলমালের জেরেই তাঁকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে খুনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ওই দোকানেরই এক কর্মী রবীন রুদ্রকে গ্রেপ্তার করেছে থানা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মিষ্টির দোকানে বেশ কিছুদিন ধরেই কাজ করছেন গৌতম। তাঁর সঙ্গে দোকানেই থাকেন আরও এক কর্মী। তাঁদের থাকার জন্য দোকানের উপরেই ঘর রয়েছে। অন্যান্য দিনের মতো রবিবারও দোকান বন্ধ করে খাওয়াদাওয়া সেরে উপরে শুতে চলে যান দু’জন। আটক কর্মী পুলিশের কাছে প্রথমে দাবি করেন, সকালে শোয়ার ঘরে তিনি গৌতমকে দেখতে পাননি। নীচে নেমে দেখেন, দোকানের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন গৌতম। পাশে একটি ছুরি পড়ে আছে। গৌতম নিজেই ছুরি দিয়ে গলা কাটার চেষ্টা করেছেন বলে পুলিশের কাছে দাবি করেন ওই কর্মী। গৌতমকে হাসপাতালেও নিয়ে যান তিনি। এরপর ওই কর্মী নিজেকে আড়াল করতে পরিচিত একজনকে দিয়ে ফোন করান গিরিশ পার্ক থানায়। পুলিশকে জানানো হয়, কে কে টেগোর স্ট্রিটে এক যুবককে ছুরিকাহত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। গিরিশ পার্ক থানার অফিসাররা প্রথমে ওই এলাকায় গিয়ে কিছু খুঁজে না পেয়ে মেডিকেল কলেজে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, গৌতম নামে মালাপাড়ার একটি নামী মিষ্টির দোকানের কর্মী ভর্তি আছেন। ওই এলাকা জোড়াবাগান থানার অন্তর্গত হওয়ায় গিরিশ পার্ক থানা তাদের বিষয়টি জানায়। ঘটনাস্থলে আসে স্থানীয় থানা। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, গৌতমের গলায় যে আঘাত রয়েছে, তা তাঁর নিজের করা নয়। অন্য কেউ তাঁর গলায় ছুরি বসিয়েছে। তা না হলে আঘাত এত গভীর হতো না। এরপর তদন্তকারীরা গৌতমের মোবাইল ঘেঁটে তাঁর মাকে পাঠানো একটি মেসেজ দেখতে পান। সেখানে গৌতম মাকে লিখেছেন, দোকানের এক কর্মী, যাকে কাকা বলে সম্বোধন করেন, তাঁর সঙ্গে টাকাপয়সার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে গোলমাল চলছে। তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এখানেই তদন্ত নতুন দিকে মোড় নেয়। গৌতমের ওই সহকর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। প্রথমে পুলিশকে ধোঁকা দিতে চাইলেও গৌতমের মাকে পাঠানো মেসেজ পড়ে শোনাতেই তিনি ভেঙে পড়েন বলে দাবি পুলিশের। পরবর্তী জেরায় আইসক্রিম বিক্রির কমিশন ভাগাভাগি নিয়ে গোলমালের কথা স্বীকার করেন তিনি। আটক কর্মী গৌতমকে বলেন, আইসক্রিম বিক্রি করে যে টাকা আসছে, তার পুরোটাই আত্মসাৎ করবেন তিনি। মালিককে বলা হবে, আইসক্রিম খারাপ থাকায় বিক্রি হয়নি। তাই লোকসান হয়েছে। এই প্রস্তাবে গৌতম রাজি না হওয়াতেই রবিবার রাতে দু’জনের গোলমাল তুঙ্গে ওঠে। তখনই আচমকা তিনি ছুরি দিয়ে গৌতমকে আঘাত করেন বলে দাবি পুলিশের।